
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দুর্বল গবেষণা, অবিশ্বস্ত পরিসংখ্যান, বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত বিভাজনের কারণে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প তার বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছে না বলে মত দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একটি প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিত সংস্কার ও গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডারস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ইউটিএসএসওবি) আয়োজিত ‘নতুন সরকার, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে নতুন আশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে।
ইউটিএসএসওবির সভাপতি এইচ এম হাকিম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিমান চলাচল, পর্যটন বোর্ড, শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
নোভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মফিজুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও গবেষণার অভাবে সঠিক পর্যটন নীতি তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের মধ্যে নীতিগত সমন্বয়ের অভাবকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং খাতের পেশাদারদের নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের উপ-পরিচালক বোরহানউদ্দিন জানান, সীমিত জনবল ও বাজেটের মধ্যেও স্থানীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে নতুন গন্তব্য ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ চলছে। তিনি পর্যটন বোর্ড ও পর্যটন কর্পোরেশনের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই বলে স্পষ্ট করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক বদরুজ্জামান ভূঁইয়া গবেষণার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের গন্তব্য পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক তাসলিম আমিন শোভন সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়, আন্তর্জাতিক মানের মেলা, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং সহজ ভিসা ব্যবস্থার দাবি জানান।
এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরামের সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণার অভাবে বাংলাদেশের অনেক প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ বাণিজ্যিকভাবে অব্যবহৃত রয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরঞ্জিত ব্র্যান্ডিং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
বক্তারা সামগ্রিকভাবে গবেষণানির্ভর, বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।


