
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আজ সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভোর ৬টায় উভয় নেতা জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছান। সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই মুহূর্তে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন প্রদান করে। পুরো অনুষ্ঠানটি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়, যা উপস্থিত সকলকে এক অপূর্ব আবেগাপ্লুত পরিবেশে নিয়ে যায়।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নিয়ে পুনরায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, এই মাটিতে যাদের রক্তে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রতিটি বাংলাদেশির জাতীয় কর্তব্য। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও একই সঙ্গে শহীদদের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন। স্মৃতিসৌধের স্তম্ভগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে দুই নেতার এই যুগ্ম শ্রদ্ধাঞ্জলি জাতির কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। চারপাশে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণের চোখে-মুখে ছিল অপরিসীম গর্ব ও আবেগের ছাপ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সকাল ৭টার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। এটি তার জন্য শুধু পারিবারিক নয়, জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধার এক অনন্য প্রকাশ। জিয়াউর রহমানের ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে যে স্বাধীনতার সূচনা হয়েছিল, তারই স্মৃতি আজ প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে নতুন করে জাগ্রত হয়। সমাধিস্থলে পৌঁছে তিনি নীরবে কিছু সময় কাটিয়ে পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই উপস্থিত থাকবেন। সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের কুচকাওয়াজ, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটি আরও বর্ণাঢ্য হয়ে উঠবে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তিনি লিখেছেন, “২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা-বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকলশহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার এই চেতনা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমরা যেন ভুলে না যাই যে, এই স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ছিল লাখো প্রাণের ত্যাগ, কোটি মানুষের সংগ্রাম। আজকের প্রজন্মকে সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
এই দিবসটি শুধু স্মৃতিচারণের নয়, বরং জাতি গঠনের প্রত্যয়কে নতুন করে জাগিয়ে তোলার দিন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদন জাতির ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সারা দেশে আজ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিভিন্ন দেশে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দিবসটি পালন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এবার স্বাধীনতা দিবসকে আরও ব্যাপকভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। স্মৃতিসৌধ থেকে শুরু করে প্যারেড গ্রাউন্ড পর্যন্ত পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে, যাতে দেশ-বিদেশের প্রতিটি বাংলাদেশি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশীদার হতে পারেন। এই দিনে আমরা শুধু অতীতের কথা স্মরণ করি না, বরং ভবিষ্যতের জন্যও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যেন আমাদের মধ্যে সেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে, যা ১৯৭১ সালে লাখো যুবককে যুদ্ধক্ষেত্রে টেনে এনেছিল।প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে এই চেতনারই প্রতিফলন ঘটেছে।
এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করছে যে, স্বাধীনতা কোনো এককালীন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিটি প্রজন্মকে এই চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আজকের এই শ্রদ্ধা নিবেদন জাতির কাছে একটি বার্তা বয়ে আনে—আমরা যেন কখনো ভুলে না যাই যাদের রক্তে আমাদের লাল-সবুজ পতাকা উড়ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই যৌথ উদ্যোগ জাতীয় ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সারা দেশ আজ একই সুরে গাইছে—জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু এবং জয় স্বাধীন বাংলাদেশ।



