ধারাবাহিক হাঙর হামলায় আতঙ্ক: সিডনির একাধিক সমুদ্র সৈকত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি হাঙর হামলার ঘটনার পর সিডনিসহ আশপাশের একাধিক সমুদ্র সৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ এমন ধারাবাহিক ঘটনার ফলে সার্ফার, পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৈকত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক হামলাটি ঘটে মঙ্গলবার সকালে, সিডনি থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উত্তরে নিউ সাউথ ওয়েলস উপকূলে। ওই ঘটনায় এক সার্ফার তার বোর্ড থেকে ছিটকে পড়েন এবং পায়ে সামান্য আঘাত পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় একাধিক হাঙরের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এর আগের দিন সোমবার সন্ধ্যায় সিডনির জনপ্রিয় ম্যানলি বিচের নর্থ স্টেইন এলাকায় এক ২৭ বছর বয়সী সার্ফার হাঙরের কামড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। জরুরি পরিষেবা পৌঁছানোর পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই একই এলাকার ডি হোয়াই বিচে এক কিশোরের সার্ফবোর্ডে হাঙরের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ভাগ্যক্রমে সে অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসে, যদিও তার বোর্ডের বড় একটি অংশ ভেঙে যায়।

এছাড়াও রবিবার সিডনি হারবারের ভেতরে আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে এক কিশোর আহত হয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এখনো নির্দিষ্টভাবে কোন প্রজাতির হাঙর জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ধারণা করা হচ্ছে বুল হাঙরই এসব হামলার পেছনে থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। টানা বৃষ্টির কারণে উপকূলীয় জল ঘোলা হয়ে গেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অপরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশন সমুদ্রে মিশেছে। এর ফলে ছোট মাছের আনাগোনা বেড়েছে, যা হাঙরকে তীরের কাছাকাছি টেনে আনছে। পরিবেশগত এই পরিবর্তনই হাঙর হামলার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় বছরে গড়ে প্রায় ২০টি হাঙর হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে গড়ে তিনজনের কম মৃত্যু হয়। তবে বছরের একেবারে শুরুতেই নিউ সাউথ ওয়েলস উপকূলে এতগুলো হামলার ঘটনা বিরল। তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, হাঙরের আক্রমণের তুলনায় সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। গত বছর দেশটিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল কয়েক শতাধিক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ সমুদ্র সৈকতে নজরদারি জোরদার করেছে এবং মানুষকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সিডনির বেশ কয়েকটি সৈকত বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

Read Previous

গারো পাহাড়ের ঢালে রঙিন গোলাপ: সীমান্তঞ্চলে বদলে যাওয়া কৃষির গল্প

Read Next

রাঙামাটিতে দূরপাল্লার বাস বন্ধ, পর্যটন ও যাত্রী চলাচলে অচলাবস্থা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular