রাঙামাটিতে দূরপাল্লার বাস বন্ধ, পর্যটন ও যাত্রী চলাচলে অচলাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক | পর্যটন সংবাদ :পার্বত্য জেলা রাঙামাটি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানগামী সব ধরনের দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পর্যটকেরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোনো রুটেই বাস ছেড়ে যায়নি। হঠাৎ এই অচলাবস্থা রাঙামাটির পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সকালে রাঙামাটি শহরের ফিশারিঘাট বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক বাস দাঁড়িয়ে আছে। চালক ও সহকারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ বাসের পাশে বসে আছেন, কেউ চায়ের দোকানে আড্ডায় ব্যস্ত। বিপরীতে, যাত্রীদের বড় একটি অংশ গন্তব্যে যেতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাস টার্মিনালে আসা যাত্রী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সকালে এসে জানতে পারি সব রুটের বাস বন্ধ। জরুরি কাজ থাকলেও উপায় না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। শুধু আমি নই, অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।

বাস চলাচল বন্ধের বিষয়ে চট্টগ্রাম–রাঙামাটি বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুপ জানান, মালিক ও শ্রমিক সমিতির যৌথ সিদ্ধান্তে সকাল থেকে ধর্মঘট চলছে। তাঁর দাবি, নিয়ম ও সমিতির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রাঙামাটি–ঢাকা সড়কে নতুন করে একটি বাস সার্ভিস চালু করায় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, রাঙামাটি রিজার্ভ বাজারে অবস্থিত একটি বেসরকারি বাস কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. আরমান বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি ও বিআরটিএর ছাড়পত্র নিয়ে গত মাসেই রাঙামাটি–ঢাকা রুটে এসি ও নন-এসি বাস চালু করা হয়। শুরুতে কোনো সমস্যা না থাকলেও হঠাৎ করে টিকিট বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় কাউন্টারে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আনিসুর জামান বলেন, সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানির সঙ্গে সমিতির একটি মামলা ছিল এবং আদালতের রায় তাদের পক্ষে এসেছে। সেই রায়ের শর্ত উপেক্ষা করে নতুন রুটে বাস চালানো হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙামাটি জেলা শাখার সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার বলেন, পরিবহন বন্ধ রেখে যাত্রীদের জিম্মি করা কোনো সমাধান নয়। এতে পর্যটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত ক্ষতির মুখে পড়ে। আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানে জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। নচেৎ দীর্ঘমেয়াদে রাঙামাটির পর্যটন ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে বাস চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। অনিশ্চয়তায় পড়েছেন যাত্রী, পর্যটক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবেদক : মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ

Read Previous

ধারাবাহিক হাঙর হামলায় আতঙ্ক: সিডনির একাধিক সমুদ্র সৈকত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

Read Next

নভোএয়ারে কেবিন ক্রু নিয়োগ: আকাশে ক্যারিয়ার গড়ার নতুন সুযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular