
টাংঙ্গোয়ার হাওর, ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার টাঙ্গুয়ার হাওর এখন পর্যটকের ভিড়ে মুখর। বর্ষার জলরাশিতে সাদা মেঘ, সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের মেলবন্ধনে ভেসে বেড়াচ্ছে শতাধিক হাউসবোট ও নৌকা। তবে এই আনন্দভ্রমণের আড়ালে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরের জীববৈচিত্র্য।
সম্প্রতি হাওরের পরিবেশ রক্ষায় জেলা প্রশাসন থেকে ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করা হলেও তা মানছেন না পর্যটক ও হাউসবোট মালিকরা। হিজল-করচ গাছের ওপর উঠা, ডাল ভাঙা, জলজ পরিবেশে চিৎকার-চেঁচামেচি ও ওয়াচ টাওয়ার থেকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক তানভীর মাহমুদ বলেন, “হিজল-করচ গাছ আর পানির এমন সমন্বয় আগে কখনও দেখিনি। তাই গাছের ওপর থেকে লাফ দিয়ে পানিতে নামছি।”
অন্যদিকে কুমিল্লার রায়হান কবীর বলেন, “এতো কষ্ট করে এসেছি, একটু আনন্দ করতেই পারি।”
তবে অনেকেই দাবি করেছেন, তারা সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে অবগত নন। এক পর্যটক সুমন আলী বলেন, “যদি প্রশাসন এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে, তবে হাওরের বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড দেওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি প্রতিটি হাউসবোটে সচেতনতামূলক বার্তা থাকা উচিত।”
হাওর বিশেষজ্ঞ ড. আমিনুল হক নোমান বলেন, “হাওরের জীববৈচিত্র্য আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ এই অবস্থা। এখন শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবায়নেই গুরুত্ব দিতে হবে।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আসিফ হোসেন চৌধুরী জানান, “হাওরের ওয়াচ টাওয়ার ও সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে হাউসবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
পর্যটকদের অসচেতনতা, কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতি এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নে দুর্বলতা মিলিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর আজ এক সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি।
বিশেষ অনুরোধ:পর্যটন যেন প্রকৃতির জন্য ক্ষতির কারণ না হয়। আমরা সকল পর্যটককে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তার সুরক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাই।



