
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশে আজ বুধবার দুপুরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পৌর পার্কে আয়োজিত এই সমাবেশে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় সমাবেশস্থলের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী আদালত চত্বরে আশ্রয় নেন। এনসিপির নেতা-কর্মীরাও আতঙ্কে দৌড়ে মঞ্চ ছেড়ে যান। হামলাকারীরা মঞ্চে তাণ্ডব চালিয়ে চেয়ার ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।
পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় এনসিপির নেতা-কর্মীরা পুনরায় সমবেত হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা এলাকা ত্যাগ করেন।
এরপর বেলা ২টা ৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তাঁরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।
এর আগে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার খাটিয়াগড় চরপাড়ায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রাকিবুল হাসানের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। কংশুর এলাকায় হামলার শিকার হয়ে ইউএনওর গাড়ির চালক আহত হন।
ইউএনও এম রাকিবুল হাসান বলেন, “পুলিশের গাড়িতে হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাই। ফেরার পথে আমাদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে চালক মোহাম্মদ হামিম আহত হন।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি চলতি জুলাই মাসজুড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ নামে একটি ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে আজকের গোপালগঞ্জ কর্মসূচিকে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ নামে ঘোষণা করা হয়, যা দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
ঘটনাগুলোর কারণে স্থানীয় পরিবেশে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করেছে।



