পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: কাশ্মিরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে বড় সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই উত্তেজনা থামাতে সরাসরি ভূমিকা রাখেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, মাত্র চার দিনের মধ্যে দুই দেশ একে অপরের ওপর ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি ও বিমান হামলা চালায়। নিহত হন অন্তত ৭০ জন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে দুই দেশকে রাজি করান।
লেভিট বলেন, “ভারত-পাকিস্তান সংঘাত যদি ট্রাম্প থামাতে না পারতেন, তা পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারত। তিনি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।”
কাশ্মিরে পর্যটকদের ওপর হামলার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটন শিল্প নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে, আর এই হামলা সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। তবুও হোয়াইট হাউসের দাবি, সংঘাত থেমে যাওয়ার ফলে অন্তত কাশ্মিরে পর্যটন আবার কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেতে পারে।
এ ঘটনার পর জুন মাসে পাকিস্তান ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করে। ইসলামাবাদের মতে, কাশ্মির ইস্যুতে তার মধ্যস্থতার প্রস্তাব এবং যুদ্ধ থামানোই এই মনোনয়নের প্রধান কারণ।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদে বলেন, “কোনও বিশ্বনেতা আমাদের সামরিক অভিযান থামাতে বলেননি।”
কাশ্মিরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা বরাবরই বিশ্বজুড়ে আলোচিত। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সহিংসতার কারণে সেই সম্ভাবনা বারবার ধাক্কা খাচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাত থামানো হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।



