১৯/০৪/২০২৬
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরায় মেট্রোরেল যাত্রীদের দুর্ভোগ: ব্যাটারি রিকশার দৌরাত্ম্যে পর্যটকরাও জিম্মি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ঢাকা মহানগরীর অন্যতম উন্নয়ন হিসেবে পরিচিত মেট্রোরেল স্বস্তির ভরসা হয়ে উঠলেও, এর সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াতকারী পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা পড়ছেন নতুন এক ভোগান্তিতে। বিশেষ করে উত্তরা সেন্টার ও তার আশপাশের স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠা ব্যাটারিচালিত রিকশার ‘সিন্ডিকেট’ কার্যত জিম্মি করে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। এতে করে রাজধানী ভ্রমণে আগ্রহী দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও পড়ছেন বিব্রতকর অবস্থায়।

উত্তরার পঞ্চবটি, ঢাকা বোর্ড ক্লাব, চারাবাগসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে মেট্রোরেলগামী যাত্রীদের জন্য একমাত্র সহজলভ্য বাহন হয়ে উঠেছে ব্যাটারি রিকশা। কিন্তু স্থানীয় একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা রিকশাচালকদের কারণে অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের একাধিকবার বাহন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাইরের এলাকার কোনো রিকশা মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি এলেই সেগুলো থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে জোরপূর্বক। কেউ প্রতিবাদ করলেই চালকদের হুমকি, চাবি টেনে নেওয়া, এমনকি রিকশার তার ছিঁড়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। সবকিছুই ঘটছে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের চোখের সামনে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিরুলিয়া থেকে মেট্রো স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হওয়া এক রিকশাচালক রমজান আলী জানান, “আমার রিকশায় থাকা যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো কিছু বলার সুযোগই পাইনি।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পর্যটনপ্রেমী আলি আহম্মেদ। তিনি বলেন, “উত্তরা দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করি। সময় বাঁচাতে মেট্রোরেলই ছিল ভরসা। কিন্তু এখন সিন্ডিকেটের জন্য যাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”

এ বিষয়ে উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের ডিসি আনোয়ার সাঈদ জানান, “এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেট্রোরেল ঘিরে এমন অরাজকতা পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বড় বাধা। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও পর্যটন সম্ভাবনাময় মহানগরীতে নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত যানবাহন ব্যবস্থা না থাকলে অভ্যন্তরীণ পর্যটন যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে দেশের সুনামও ক্ষুণ্ন হবে।

পর্যটকদের যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন ও সুরক্ষিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। রিকশা সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে উন্মুক্ত, সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলিত পরিবহন নীতি বাস্তবায়ন করতে পারলেই কেবল মেট্রোরেলের সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা।

Read Previous

শাহজালালসহ ৮ বিমানবন্দরে রানওয়ে পিচ্ছিল, রাবার অপসারণে নেই আধুনিক যন্ত্র

Read Next

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমছে, বাংলাদেশ পেল সবুজ সংকেত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular