
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পর্তুগালের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংক্রান্ত নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন। দেশটির নতুন সরকার অভিবাসনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ইউরোপের সেনজেনভুক্ত এই দেশটি পরিবার পুনর্মিলন এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ভিসা নীতিতেও সীমাবদ্ধতা আনতে যাচ্ছে।
পর্তুগিজ দৈনিক পাবলিকো এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইনফোমাইগ্র্যান্টস-এর বরাতে জানা গেছে, নতুন আইন অনুযায়ী নাগরিকত্বের আবেদন করতে হলে আগের পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর বৈধভাবে বসবাস করতে হবে—এমন একটি প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।
মন্ত্রিসভা বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব পেতে আবশ্যক শর্তাবলিতে আরও কঠোরতা আনা হবে। শুধু তাই নয়, অভিবাসীরা আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে অনুমোদন পর্যন্ত সময়টিকে বৈধ বসবাস হিসেবে গণ্য করার যে দাবি করে আসছেন, তা পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ নাকচ করে দিয়েছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনেগ্রো নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে, অভিবাসন নীতির সংস্কার তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনসেবা ও সমাজের সামগ্রিক সক্ষমতা বিবেচনায় এনে পরিবার পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা এসেছে।
এছাড়াও, কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ভিসা কেবলমাত্র উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রার্থীর ভাষাজ্ঞানকেও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় মূল্যায়নের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে ব্রাজিল, অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক, কেপ ভার্দে, গিনি-বিসাউ ও সাও তোমে প্রিন্সিপের মতো সিপিএলপি (পর্তুগিজ ভাষাভাষী কমিউনিটি) দেশগুলোর অভিবাসীদের জন্য পর্তুগাল গন্তব্য হিসেবে কিছুটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ব্রাজিলীয় নাগরিকদের বড় অংশই কর্মসংস্থানের খোঁজে পর্তুগালে পাড়ি জমায় এবং পরে পরিবার নিয়ে আসার পরিকল্পনা করে থাকেন। কিন্তু নতুন নীতিমালার ফলে এই সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
পর্তুগাল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এখন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের আকৃষ্ট ও ধরে রাখাকে প্রাধান্য দেবে, যা ভবিষ্যতের অভিবাসননীতির মূল দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।



