
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: রাজধানীসহ দেশের সব মহানগর ও দূরপাল্লার রুটে বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পরিবহন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভাড়া বৃদ্ধির পেছনের কারণ
গত ২১ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে মালিক সমিতি জানিয়েছে, বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহনের ভাড়া ‘যৌক্তিক হারে’ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে ২০২২ সালে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হলেও, সে সময় খুচরা যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, আমদানি নির্ভর যন্ত্রাংশের দামও প্রায় দেড় গুণ বেড়েছে বলে দাবি করা হয় চিঠিতে। ডলার বিনিময় হার ৮৪ থেকে ১২১ টাকায় পৌঁছানোয় পরিবহন খাতে ব্যবহৃত টায়ার-টিউব, লুব্রিকেন্ট, ইঞ্জিন যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে গেছে। মালিকদের মতে, বর্তমান ভাড়ায় যানবাহন পরিচালনা করা ক্রমেই অলাভজনক হয়ে উঠছে।
যাত্রী অধিকার সংগঠনের উদ্বেগ
বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসই জরাজীর্ণ ও অনুপযোগী। এসব মানহীন বাস অপসারণ না করে ভাড়া বাড়ানো সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “নতুন ও মানসম্পন্ন বাস চালু করা না হলে ভাড়া বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। দেশের দূরপাল্লার কিছু বাসের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
পর্যটন খাতে সম্ভাব্য প্রভাব
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, ভাড়া বৃদ্ধির ফলে দেশীয় পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য যেমন কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, সেন্ট মার্টিন বা সুন্দরবনে যাতায়াত ব্যয় বাড়বে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের গতি শ্লথ হতে পারে।
মালিকপক্ষের বক্তব্য
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এস এম আহমেদ খোকন বলেন, “সব কিছুর দাম বাড়ছে, অথচ বাসভাড়া আগের জায়গায় থাকলে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যানজটের কারণে এক রুটে একাধিকবার তেল খরচ হয়। শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে, তাই ভাড়া পুনর্নির্ধারণ সময়ের দাবি।”
সতর্ক বার্তা:
বাসভাড়া পুনঃনির্ধারণ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।



