
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন যেন এখন নীরব এক জনপদ। পর্যটকবিহীন দ্বীপজুড়ে চিরচেনা কোলাহলের পরিবর্তে ঘরে ঘরে এখন হতাশা, বাজারে খামখেয়ালিপনা, আর অলস দুপুরে ক্যারাম খেলে সময় পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরকারি নিষেধাজ্ঞায় গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে পর্যটকদের সেন্টমার্টিনে যাতায়াত। এতে করে পুরো দ্বীপের পর্যটননির্ভর অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রায় দশ হাজার মানুষের এই দ্বীপে রোজগারের মূল উৎসই ছিল পর্যটন খাত। বর্তমানে ৪০০-রও বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও খাবার হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
একজন দোকানদার হতাশ কণ্ঠে বলেন, “সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, পর্যটক নেই, তাই ব্যবসাও নেই। সকাল-বিকেল ক্যারাম খেলেই সময় কাটছে। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছি না—এটাই সবচেয়ে বড় কষ্ট।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, মৌসুম বন্ধের পর সরকার কোনো কার্যকর সহায়তা দেয়নি। পরিবেশ রক্ষা এবং দ্বীপের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে তারা একমত হলেও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে দ্বীপের প্রধান আয়ের উৎস বন্ধ করায় অসন্তুষ্ট তারা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পরিবেশবাদী উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন, সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কিছুই পাইনি। ঘরের যা কিছু আছে বিক্রি করে খাচ্ছি। এগুলো শেষ হলে দ্বীপ ছেড়ে যাওয়ার বিকল্প থাকবে না।”
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বীপবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কিছু প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। জেলা প্রশাসক মো. সালাহউদ্দিন জানান, “উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ চলছে।”
উল্লেখ্য, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। গত বছরও মাত্র দুই মাস পর্যটন মৌসুম চালু ছিল, তাও কঠোর শর্তসাপেক্ষে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পর্যটন মৌসুমে জাহাজ চলাচল ও দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে শর্তগুলো সহজ করা হোক এবং দ্বীপবাসীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে সেন্টমার্টিন এখন নিঃস্তব্ধ। কিন্তু তার চেয়েও বেশি নীরবতা বিরাজ করছে স্থানীয় মানুষের ভবিষ্যৎ।



