
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: চাঁদপ্রেমীদের জন্য দারুণ খবর—আগামী ৭ অক্টোবর রাতের আকাশে দেখা যাবে ২০২৫ সালের প্রথম সুপারমুন। এ সময় চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আসবে, ফলে সেটি স্বাভাবিকের তুলনায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখা যাবে।
জ্যোতির্বিদদের ভাষায়, এই সুপারমুনকে বলা হয় ‘হার্ভেস্ট মুন’, যা শরৎ ঋতুর শুরুতে উদিত পূর্ণিমার চাঁদ। এ সময় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে—যা ঘটে শারদ বিষুবের সময়। তখন চাঁদ দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান করায় সেটি সোনালি-কমলা আভায় ঝলমল করে ওঠে।
কেন বলা হয় হার্ভেস্ট মুন?
প্রাচীনকালে কৃষকেরা ফসল কাটার মৌসুমে সন্ধ্যার পরও চাঁদের আলোয় মাঠে কাজ চালিয়ে যেতেন। উজ্জ্বল চাঁদ তাঁদের বাড়তি সময় দিত—সেখান থেকেই এই নামের উৎপত্তি, ‘হার্ভেস্ট মুন’।
দেখা যাবে দুই রাতেই
পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশনের (সুপারকো) তথ্যানুযায়ী, এই সুপারমুন ৭ অক্টোবর পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বে দৃশ্যমান হবে। দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে ৬ ও ৭ অক্টোবর দুই রাতেই দেখা মিলবে এই বিরল দৃশ্যের। সেই রাতে চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬১,৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করবে।
কীভাবে দেখা যাবে?
সুপারমুন দেখার জন্য কোনো টেলিস্কোপ বা বিশেষ যন্ত্রের দরকার নেই। খোলা আকাশে দিগন্ত বরাবর তাকালেই দেখা মিলবে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের। তবে শহরের আলোদূষণ থেকে দূরে, গ্রামীণ বা পাহাড়ি এলাকায় চাঁদের সৌন্দর্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উপভোগ করা সম্ভব।
আগামী সুপারমুনগুলো
এই বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সুপারমুন দেখা যাবে যথাক্রমে ৫ নভেম্বর ও ৫ ডিসেম্বর। এরপরের সুপারমুন দেখা যাবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে, যা পরবর্তী বছরের চক্রের অংশ হিসেবে ধরা হবে।
প্রায় ১১ মাস পর পৃথিবীর এত কাছে আসা এই চাঁদ নিঃসন্দেহে হবে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমী ও ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তাই ৭ অক্টোবরের রাতটা রেখে দিন চাঁদের নামে—আকাশের দিকে তাকান, আর প্রকৃতির এই আলোছায়ার উৎসব উপভোগ করুন।
সূত্র: জিও টিভি, সুপারকো



