
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: চট্টগ্রামের মিরসরাই এখন নতুনভাবে জায়গা করে নিচ্ছে দেশের পরিবেশবান্ধব পর্যটন মানচিত্রে। এখানকার সোনাপাহাড় ফার্মহাউসে গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম মিয়াওয়াকি ফরেস্ট—একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি ঘন, সবুজ ও জীববৈচিত্র্যময় বন, যা এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য।
জাপানি উদ্ভিদবিদ ড. আকিরা মিয়াওয়াকির উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিতে খুব অল্প সময়েই গভীর বন তৈরি করা সম্ভব। মাত্র ১৩ মাসেই মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড়ে গড়ে উঠেছে এমন এক বন, যা দেখতে যেন এক যুগের পুরোনো অরণ্য। প্রায় ৬ একর জায়গাজুড়ে ১২০ প্রজাতির গাছ ও লতাগুল্মে ভরা এই এলাকা এখন এক প্রশান্ত সবুজ আশ্রয়।
আগে এখানে ছিল একটি ইটভাটা—যার ধোঁয়া ও পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশ প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। সেই ধ্বংসাবশেষের জায়গাতেই স্থানীয় উদ্যোক্তা আমজাদ হোসেনসহ কয়েকজন উদ্যোগী মানুষ তৈরি করেছেন এই মিয়াওয়াকি ফরেস্ট, যা এখন মিরসরাইয়ের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সোনাপাহাড় ফার্মহাউস শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি এক পূর্ণাঙ্গ ইকো-ট্যুরিজম স্পট। এখানে আছে আধুনিক সব সুবিধাসম্পন্ন ভিলা, যেগুলো প্রকৃতির মাঝেই গড়ে তোলা। সকালবেলায় পাখির ডাক, দুপুরে ঘন সবুজের ছায়া, আর বিকেলে লেকের ধারে শান্ত বসার জায়গা—সব মিলিয়ে এটি এখন শহরের ব্যস্ততা থেকে মুক্তির দারুণ জায়গা।
লেকের চারপাশে রয়েছে ছাউনিঘর ও ওয়াচ টাওয়ার, যেখানে বসে সহজেই পুরো বনভূমি দেখা যায়। যারা প্রকৃতি ভালোবাসেন, ফটোগ্রাফি করেন, বা নিঃশব্দে কিছু সময় কাটাতে চান—তাদের জন্য এই জায়গা নিখুঁত।
মিয়াওয়াকি ফরেস্ট ও সোনাপাহাড় ফার্মহাউস মিলিয়ে এখন মিরসরাইয়ের পর্যটন সম্ভাবনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এই ধরণের পরিবেশবান্ধব পর্যটন উদ্যোগ শুধু ভ্রমণকেই উৎসাহিত করবে না, বরং বন সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।
সোনাপাহাড়ে এখন একসাথে পাওয়া যায় পাহাড়, বন, লেক আর প্রশান্তি—একই জায়গায় প্রকৃতি ও আরামের নিখুঁত ভারসাম্য।



