১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন পেল উপদেষ্টা পরিষদে

ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সরকারি সূত্র জানায়, ২০২৬ সালে মোট ২৮ দিনের সরকারি ছুটি থাকবে। তবে এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কার্যত সরকারি কর্মদিবসের ছুটি থাকবে ১৯ দিন। এই ছুটির মধ্যে রয়েছে ধর্মীয়, জাতীয় ও ঐতিহাসিক দিবসগুলো।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, ২০২৬ সালের সরকারি ছুটি নির্ধারণে সরকার ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় দিবস, আন্তর্জাতিক দিবস ও দেশের সার্বিক প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েছে। এ ছাড়াও কর্মদিবসের ভারসাম্য রক্ষায় ছুটির তারিখগুলো এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে নাগরিকদের ভ্রমণ ও পারিবারিক আয়োজনেও সুবিধা হয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছরও যথারীতি বাংলা নববর্ষ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে সরকারি ছুটি থাকবে। ধর্মীয় ছুটির মধ্যে রয়েছে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, পবিত্র আশুরা, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), বুদ্ধ পূর্ণিমা, বড়দিন ও দুর্গাপূজা।

প্রেস সচিব আরও বলেন, “ছুটির তালিকা অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রম ও বার্ষিক পরিকল্পনা নির্ধারণে সহজতা আসবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি এক ধরনের রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।”

অফিস আদালতের বাইরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা খাত ও বেসরকারি সংস্থাগুলোও সাধারণত সরকারি ছুটির তালিকা অনুসরণ করে। ফলে এ তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সারা বছরের কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অফিসসূচি তৈরির কাজ শুরু হয়।

২০২৬ সালের ছুটির সময়সূচি অনুযায়ী, ধর্মীয় ছুটিগুলো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। ইসলামিক তারিখের ভিত্তিতে রমজান, ঈদ ও আশুরার দিন নির্ধারিত হয়, তাই চূড়ান্ত ঘোষণা সংশ্লিষ্ট ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে।

বৈঠকে উপদেষ্টারা আরও বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ছুটির পাশাপাশি, দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম যেন বিঘ্নিত না হয়—সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিকল্প কর্মসূচি বজায় রাখার নির্দেশনা থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে বলেন, “ছুটি শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনেরও সময়। মানুষ যেন পরিবার, সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হতে পারে—এই মানবিক দিকটিও আমাদের বিবেচনায় ছিল।”

আগামী সপ্তাহের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন আকারে ছুটির বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকায় প্রত্যেক ছুটির তারিখ, দিন এবং উপলক্ষ উল্লেখ থাকবে।

মোট ছুটির সংখ্যা ২৮ দিন হলেও, শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলে যাওয়া দিনগুলো বাদ দিলে প্রকৃত ছুটি ১৯ দিন। ফলে ২০২৬ সালেও আগের বছরের মতোই দীর্ঘমেয়াদি টানা ছুটি সীমিত থাকবে, যা কর্মদিবসের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে বলে প্রশাসনিক মহল মনে করছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছুটির তালিকা চূড়ান্ত হওয়ায় দেশজুড়ে প্রশাসনিক পরিকল্পনা, বাজেট ও কাজের সময়সূচি নির্ধারণে স্পষ্টতা আসবে। নাগরিকদের জন্যও এটি সুবিধাজনক, কারণ অনেকেই বছরের শুরুতেই ছুটির দিন অনুযায়ী ভ্রমণ ও পারিবারিক আয়োজন পরিকল্পনা করেন।

অর্থাৎ, ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির অনুমোদনের মধ্য দিয়ে আগামী বছরের প্রশাসনিক সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে গতি পেল। এখন অপেক্ষা শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের।

Read Previous

বাংলাদেশ-তিমুর লেস্তে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

Read Next

কারিগরি সমস্যার সমাধানে বোয়িং ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তা নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular