
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ভারতের হিমাচল প্রদেশে প্রবল বর্ষণের পর ভয়াবহ ভূমিধসে একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা পড়ে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত এক ডজন যাত্রী। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিলাসপুর জেলার ঝান্ডুটা উপবিভাগের বালুঘাট এলাকায়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মারোত্তান থেকে ঘুমারউইনগামী বাসটিতে প্রায় ৩০ জন যাত্রী ছিলেন। পাহাড়ি পথে চলার সময় হঠাৎ ওপর দিক থেকে বিশাল পাথরগুচ্ছ ধসে পড়ে বাসটির ওপর। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি পাথরের নিচে চাপা পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেন। পরে পুলিশ ও দুর্যোগ ত্রাণ দল (এসডিআরএফ) ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। পাথরের বিশাল ওজনের কারণে উদ্ধারকর্মীদের এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে বাসের ছাদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।
রাত ৯টার মধ্যে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। আহতদের স্থানীয় বার্থিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকার এসডিএম অর্জিয়া শর্মা জানান, “উদ্ধার অভিযান যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। আরও কয়েকজন যাত্রী এখনো নিখোঁজ।”
পুলিশ জানিয়েছে, পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় বেসরকারি পরিবহন সংস্থার মালিকানাধীন বাসটির প্রায় পুরো অংশই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে গেছে।
এদিকে, হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্য প্রশাসন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রবল বর্ষণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হিমাচল প্রদেশে একাধিক স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে এবং মানুষকে অপ্রয়োজনে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস



