পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতার সূচনা করবে, যা বাংলাদেশের পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান ‘শেখ হাসিনা-পরবর্তী’ বাংলাদেশকে একটি বড় পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাবে বলেও মনে করছেন।
গত বছর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে নতুন একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজন দেশকে আবারও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার পথে বড় এক ধাপ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দ্রুত বিকাশমান, যেখানে সিলেটের চা বাগান, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও মায়ানমার সীমান্তবর্তী সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ পর্যটকদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করেছে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এলে দেশের পর্যটন শিল্প ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন বাড়বে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সবাইকে উৎসাহিত করেছেন আগামী নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য। তিনি বলেছেন, “নির্বাচন সামনে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আর নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় প্রত্যেক নাগরিকের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। তাই নতুন সরকারের সফল নির্বাচন ও পরিচালনা দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য আশার বাতি জ্বালাবে।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি) ইতোমধ্যে আগামী বছরের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণের নানা কর্মসূচি পরিকল্পনা করছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।



