১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনাকে ফেরাতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ

আওয়ামী লীগ সরকার জনতার প্রতিরোধের মুখে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে পরিকল্পিত ও সমন্বিত কৌশলের মাধ্যমে নৃশংসতা চালিয়েছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশেই চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীরা দেশের বাইরে থাকলে তাদের ফেরানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন (ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন) প্রয়োগ করা যেতে পারে।

গতকাল বুধবার দুপুরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক।

ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনতে পারে যে কোনো দেশের আদালত। এ ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনের স্থান কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না। ওই আইনের আওতায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার বা প্রত্যর্পণ চাওয়ার সুযোগ থাকে।

প্রতিবেদন প্রকাশের শুরুতে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার সূচনা বক্তব্য দেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রোরি মুনগোভেন ও দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি।

মানবাধিকার লঙ্ঘনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ভলকার টুর্ক বলেন, প্রতিবেদনে এটি স্পষ্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ মহল বিষয়টি সম্পর্কে জানত। প্রকৃতপক্ষে গুম, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, সহিংস পদ্ধতিতে বিক্ষোভ দমনের মতো নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে তারা জড়িত ছিল।

মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা এখন ভারতে আছেন। এ ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে– জানতে চাইলে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার বলেন, যদি অপরাধী দেশের বাইরে থাকে, তখন ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যে দেশে অপরাধী অবস্থান করছে, তাদের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধের বিচার করতে সম্মত হতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) এ বিষয়ে তদন্তের জন্য বলতে পারে।তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অভ্যন্তরীণ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইসিসিতে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।

তাঁর মতে, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার কাজ শুরু হয়েছে; অনেক মামলাও হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও মামলা হয়েছে। বাংলাদেশের আইনি কাঠামোতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ।

Read Previous

যুদ্ধে প্রাণহানি বন্ধে রাজি ট্রাম্প-পুতিন

Read Next

ভারতের কাছ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় বিএনপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular