
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঘন জঙ্গলের নীরবতা হঠাৎ করেই চিৎকারে কেঁপে ওঠে। রশিতে পা আটকে এক ছোট্ট বানর ছটফট করছে ব্যথায়।挣 মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আরো শক্ত হয়ে যায় ফাঁদের বাঁধন, রক্ত ঝরছে বাঁ পা দিয়ে। সেই আর্তনাদ পৌঁছে যায় বনকর্মীদের কানে। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান—হরিণ শিকারের জন্য পাতা ফাঁদে গাছে ঝুলছে একটি বানর।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঘাগমারী এলাকায়। বনকর্মীরা বানরটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় বনে অবমুক্ত করেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ছবি প্রকাশ করেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি লিখেন,
“হরিণ ধরতে গিয়ে শিকারিরা শুধু হরিণই মারে না, একই ফাঁদে মারা পড়ে আরও অসংখ্য বন্যপ্রাণী। আমার পাঁচ মাসের কর্মকালে আমরা বিপুল পরিমাণ ফাঁদ সরিয়ে না ফেলতে পারলে শত শত প্রাণ এখন পর্যন্ত শিকার হতো—এটাই বাস্তবতা।”
তিনি আরও জানান, বন বিভাগের টহল দল প্যারালাল লাইন সার্চিং পদ্ধতিতে নিয়মিত ফুট প্যাট্রল চালায়। সেই টহল দলের সদস্যরাই ফাঁদে আটকে থাকা বানরটিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
রেজাউল করিম চৌধুরী জনগণের উদ্দেশে অনুরোধ করে বলেন,
“শিকারিদের আশ্রয় দেবেন না, তাদের কাছ থেকে মাংস কিনবেন না। যারা কেনে, তারাও অপরাধের অংশীদার। আপনারা এগিয়ে এলে সুন্দরবনের প্রাণ বাঁচবে।”
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তা?
- সুন্দরবনে হরিণ শিকারের নামে পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে অন্য প্রাণীও
- বনবিভাগ নিয়মিতভাবে এসব ফাঁদ অপসারণ করে প্রাণ বাঁচানোর কাজ করছে
- স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা ছাড়া এই চোরাশিকার বন্ধ করা সম্ভব নয়
একটি বানরকে বাঁচানো হয়তো ছোট ঘটনা মনে হতে পারে, কিন্তু এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে সুন্দরবন রক্ষার বড় বার্তা—প্রকৃতি রক্ষা শুধু সরকারের কাজ নয়, আমাদের সবার দায়িত্ব।



