
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পথে চলাচলকারী বাস বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় যাত্রী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। রোববার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ধর্মঘটের সূত্রপাত হয় রোববার সকালে, শান্তিগঞ্জে অবস্থিত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সামনে। বাসভাড়া নিয়ে প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও এক বাস হেল্পারের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে শুরু হয়ে ঘটনার রূপ নেয় সংঘর্ষে। শ্রমিকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা ওই হেল্পারকে মারধর ও বাস ভাঙচুর করে এবং পরে ক্যাম্পাসে আটকে রাখে।
ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকেরা সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বাসস্টেশন এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করেন। এর ফলে পুরো শহরে যানজটের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির মধ্যে অনেক যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।
পরে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। রাত ১০টার দিকে এক জরুরি বৈঠক শেষে জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন তিন দফা দাবিতে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
তাদের দাবিগুলো হলো—
1️⃣ শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
2️⃣ হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা
3️⃣ পাঁচ মাস ধরে কারাগারে থাকা এক শ্রমিকের মুক্তি
পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাও বন্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত হেল্পার মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাদের একজনকে উদ্দেশ্য করে ধাক্কা দেন।
পরিবহন নেতাদের দাবি, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়—পূর্বেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন বিরোধ ঘটেছে এবং তারা বারবার বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
এই ধর্মঘটের ফলে জেলার ছাতক, তাহিরপুর, জাদুকাটা, টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটনস্পটে যাতায়াতে চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখনই দ্রুত সমাধান না হলে আসন্ন সপ্তাহান্তে সুনামগঞ্জগামী পর্যটনপ্রেমীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।



