সিলেটের জুগিরকান্দির ‘মায়াবন’: রহস্যময় জলজবনের অপরূপ সৌন্দর্য

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের জুগিরকান্দি হাওরের মাঝখানে বিস্তৃত এক অপরূপ জলজ বন এখন ধীরে ধীরে পর্যটকদের নজর কাড়ছে। স্থানীয়দের মুখে মুখে এটি পরিচিত ‘মায়াবন’ নামে। হিজল, করচ আর নানা জলজ গাছে ঘেরা এই বিশাল বনজুড়ে রয়েছে এক রহস্যঘেরা প্রাকৃতিক শোভা। প্রায় এক হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ বনভূমি বর্ষায় পানিতে ডুবে গিয়ে এক স্বপ্নময় দৃশ্যের সৃষ্টি করে, যা দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।

বনের ভেতরে ঢুকে পড়লেই চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির হিজল ও করচ গাছের সারি। বর্ষার মৌসুমে এসব গাছের নিচে জমে থাকে পানির স্তর, আর তারই ওপর দিয়ে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো যায় মায়াবনের গহীনে। সকালে সূর্যের আলো যখন গাছের ফাঁক গলে পড়ে পানির ওপর, তখন সৃষ্টি হয় এক মনমুগ্ধকর পরিবেশ। পাখির কিচিরমিচির ডাক, পাতার ফাঁকে সোঁদা বাতাস আর গাছের গুঁড়িতে জমে থাকা শেওলার ঘ্রাণ যেন প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম করে তোলে দর্শনার্থীদের।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি মায়াবনে রয়েছে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। এখানে দেখা মেলে মাছরাঙা, বক, পানকৌড়ি, ফিঙে, ঘুঘুর মতো অসংখ্য পাখির। জলজ জীব যেমন মাছ, কাঁকড়া বা ছোট প্রাণী তো রয়েছেই; পাশাপাশি বানর, কাঠবিড়ালি এমনকি মাঝে মাঝে মেছোবাঘেরও উপস্থিতির খবর মেলে স্থানীয়দের মুখে। এসব প্রাণী এবং প্রকৃতিকে অক্ষুণ্ন রাখতে পর্যটকদের দিক থেকে সচেতনতা খুবই জরুরি।

যাতায়াত ব্যবস্থাও বেশ সহজ। সিলেট শহর থেকে সড়কপথে ৩৭ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সারিঘাট পয়েন্টে পৌঁছাতে হয়। সেখান থেকে আরও ৮ কিলোমিটার এগিয়ে গিয়ে বেখরা সেতু পার হলেই মিলবে মায়াবনের প্রধান প্রবেশপথ। এরপর পানসিতে বা ডিঙ্গি নৌকায় মাত্র ১০ মিনিটের যাত্রায় আপনি চলে যাবেন এক অন্য জগতের দ্বারপ্রান্তে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহলসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের পর্যটনশিল্পে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন জানান, এই জায়গাটি পর্যটন সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে, যদি আমরা সবাই মিলে এর রক্ষণাবেক্ষণে সচেষ্ট হই।

প্রাকৃতিক নিসর্গ ও রহস্যময় পরিবেশে ঘেরা এই জুগিরকান্দির মায়াবন সত্যিকার অর্থেই এক নতুন ভ্রমণ গন্তব্য। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে, নিজেকে হারিয়ে ফেলতে কিংবা শুধু একটু প্রশান্তি খুঁজতে – মায়াবন হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য। তবে মনে রাখতে হবে, এই অনন্য সৌন্দর্যকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের দায়িত্বশীল আচরণই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

Read Previous

ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড’ সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা পরিষদের

Read Next

প্রকাশ্যে মহাবিপন্ন বাগাড় মাছের নিলাম, চোখ বুজে আছে আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular