
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মাপারের মাছ বাজারে প্রতিদিনই চলছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। ভোর পাঁচটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত বসা এই পাইকারি বাজারে প্রতিদিনই প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে মহাবিপন্ন ঘোষিত বাগাড় মাছ।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির মাত্র ২০ গজ দূরে এই বাজার বসে। অথচ চোখের সামনে প্রতিদিন বাগাড়সহ নানা মাছের কেনাবেচা চললেও নৌ পুলিশ কিংবা প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না।
রোববার ভোর ছয়টায় দৌলতদিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট এলাকার রাজীব সরদার একটি প্রায় সাড়ে আট কেজি ওজনের বাগাড় মাছ নিয়ে এসেছেন। মাছটি ধরা পড়ে পদ্মা নদীতে, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে। মাছটি নিলামে বিক্রি হয় ১২০০ টাকা কেজি দরে, মোট দাম পড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ক্রেতা ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী মোমিন মোল্লা।
এর কিছুক্ষণের মধ্যে আরও দুটি বাগাড় মাছ বিক্রি হয় একই দরে। একটি কিনেছেন মাসুদ মোল্লা, আরেকটি চান্দু মোল্লা, যার ওজন ছিল প্রায় ১৬ কেজি। এভাবেই প্রতি দিন দৌলতদিয়ার মাছ বাজারে ধরা পড়ছে ২-৩টি করে বাগাড়। বাজারের একতা মৎস্য আড়তের আড়তদারদের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৩০টির মতো বাগাড় বিক্রি হয়েছে এখানে।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলেরা যখন এসব মাছ নিয়ে আসে, তারা শুধু কিনছেন মাত্র। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বাগাড় মাছের শিকার, বিক্রি এবং পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের ভূমিকা এতটাই নীরব কেন?
এ বিষয়ে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে তেমনভাবে ভাবা হয়নি। তবে এখন থেকে গুরুত্ব দিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।” তবে তিনি পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই বলেও দাবি করেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, মৎস্য আইনে বাগাড় মাছের নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এটি শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ। তার মতে, সচেতনতামূলক প্রচারণাই হতে পারে এই সমস্যা সমাধানের অন্যতম পথ।
এদিকে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুর রহমান বলেন, “প্রসিকিউশন পেলে ব্যবস্থা নিতে পারি। তবে অভিযানের আগেই অনেকে স্থান ত্যাগ করে থাকেন, ফলে আটক করা সম্ভব হয় না। মৎস্য অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ও যমুনার তলদেশে বিলুপ্তির পথে থাকা এই বিরল মাছ সংরক্ষণে এখনই জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে এই মাছ শুধু ইতিহাসেই থেকে যাবে।



