
সিটি ব্যাংকের সিইও মাশরুর আরেফিন
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘ তিন দশকের যাত্রা, ধারাবাহিক নেতৃত্ব, এবং ব্যবসায়িক উদ্ভাবনের শক্ত ভিত তৈরি করার জন্য সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাসরুর আরেফিনকে বাংলাদেশ সি-সুইট অ্যাওয়ার্ডস-এর চতুর্থ আসরে বছরের সেরা সিইও ২০২৫ নির্বাচিত করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরির এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেশের ব্যাংকিং খাতে নেতৃত্বদানে উৎকর্ষের একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সি-সুইট অ্যাওয়ার্ডস ব্যাংকিং শিল্পের সেরা কর্পোরেট নেতাদের সম্মান জানিয়ে থাকে। এর আগে একই ক্যাটাগরিতে সম্মানিত হয়েছিলেন ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজা ইফতেখার, এমটিবিএলের সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং মোবাইল ফিনটেক প্রতিষ্ঠান বিকাশ-এর প্রধান কামাল কাদির। তাঁদের পর এবার এই তালিকায় যুক্ত হলেন মাসরুর আরেফিন, যিনি সিটি ব্যাংককে গত কয়েক বছরে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম স্থপতি।
ব্যাংকের টানা অগ্রগতিতে তাঁর নেতৃত্বের ছাপ
মাসরুর আরেফিন সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আসার পর ব্যাংকটির সামগ্রিক পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যায়। ছয় বছরের ব্যবধানে অপারেটিং প্রফিট ২০১৮ সালের ৬৯৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৫১ কোটি টাকায়। নেট প্রফিটও একই সময়ে তিনশোর কম থেকে বেড়ে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ছুঁয়ে ফেলে। রিটার্ন অন একুইটিও ৮ শতাংশের সামান্য ওপরে থাকা অবস্থান থেকে লাফিয়ে ২৬ শতাংশে পৌঁছায়—যা দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকিং শিল্পে এক ধরণের মাইলফলক।
ব্যাংকের মূলধনও এই সময়ে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পায়। স্থিতিশীল লাভজনকতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলাপূর্ণ কৌশলের ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কর্মদক্ষতা, ব্যবস্থাপনা নীতি এবং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ—এই তিনটি দিককে সমান গুরুত্ব দিয়ে সিটি ব্যাংককে তিনি বাজারে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি ব্যাংককে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেকসই ব্যাংক হিসেবে ঘোষণা করে। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন, টেকসই অপারেশন ম্যানেজমেন্ট এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এই স্বীকৃতি আসে।
ডিজিটাল রূপান্তরে সিটি ব্যাংককে এগিয়ে নেওয়া
বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারে সিটি ব্যাংক বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, আর এই রূপান্তরের নেতৃত্বে ছিলেন মাসরুর আরেফিন। তাঁর নেতৃত্বে উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক সিটিটাচ প্ল্যাটফর্ম আরও বিস্তৃত হয় এবং লাখো গ্রাহকের দৈনন্দিন ব্যাংকিংকে আরও সহজ ও দ্রুত করে তোলে।
বিশেষভাবে আলোচিত উদ্যোগ ছিল ডিজিটাল ন্যানো লোন—যেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রাহক মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে স্বল্পপরিমাণ ঋণ নিতে পারেন, কোন কাগজপত্র বা শাখায় যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই। এই সেবা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ব্যবহারকারীর কাছে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের নতুন সম্ভাবনা পরিচয় করিয়ে দেয়।
পুরস্কার অর্জনের তাৎপর্য
আর্থিক খাতে টানা উন্নয়ন, সংকট সামাল দেওয়ার দক্ষতা, উদ্ভাবনী সেবা চালু করা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করার কারণে সি-সুইট জুরি বোর্ড তাঁর নামটি এবারকার সেরা সিইও হিসেবে নির্বাচন করে। এই পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং পুরো সিটি ব্যাংক টিমের সাফল্যের প্রতিফলন। কারণ গত ছয় বছরে ব্যাংকটিকে একটি গতিশীল, প্রযুক্তিনির্ভর এবং গ্রাহককেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তিনি সংগঠনজুড়ে একটি সুপরিকল্পিত রূপান্তর যাত্রা পরিচালনা করেছেন।
এই অর্জনের মাধ্যমে সিটি ব্যাংক আবারও প্রমাণ করল যে সঠিক নেতৃত্ব এবং স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পেলে একটি ব্যাংক কত দ্রুত এবং কত দূর যেতে পারে। মাসরুর আরেফিনের এই স্বীকৃতি দেশের ব্যাংকিং শিল্পে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বগঠনের ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা



