সম্প্রীতির দৌড়: রাঙ্গামাটিতে পুলিশ সুপার কাপ মিনি ম্যারাথন ও হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

রাঙ্গামাটিতে পুলিশ সুপার কাপ মিনি ম্যারাথন ও হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ : সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ—এই তিনটি শব্দের মেলবন্ধন ঘটল পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে। জেলা পুলিশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো “সম্প্রীতি মিনি ম্যারাথন ও সম্প্রীতি হ্যান্ডবল-২০২৫”। ক্রীড়ার উচ্ছ্বাস আর সামাজিক ঐক্যের বার্তা একসঙ্গে মিশে গেল এই আয়োজনে, যা পুরো জেলাজুড়ে এনে দিল এক ইতিবাচক আবহ।

সোমবার সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে প্রাণবন্ত পরিবেশে শুরু হয় মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। সকালবেলার শীতল বাতাসে পা মিলিয়ে দৌড় শুরু করেন শতাধিক অংশগ্রহণকারী। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা গন্তব্যে পৌঁছান রাঙ্গামাটি মারি স্টেডিয়ামে। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের করতালিতে প্রতিযোগীরা যেমন উজ্জীবিত হন, তেমনি গোটা শহরও যেন এক উৎসবের আবহে ভরে ওঠে।

ম্যারাথনের পরপরই একই মঞ্চে শুরু হয় সম্প্রীতি হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে মুখোমুখি হয় লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সমন্বিত স্কুল দল। খেলাটি ছিল প্রাণবন্ত, প্রতিটি আক্রমণ আর প্রতিরোধে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষ পর্যন্ত লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৮-২ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) ফরিদা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী নুসরাত এদীব লুনা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন।

প্রধান অতিথি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। পুলিশ বাহিনী জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বর্তমান সময়ে সমাজে পারস্পরিক বোঝাপড়া আর সহনশীলতা বাড়ানো জরুরি। খেলাধুলা সেই কাজটিই সহজ করে দেয়, কারণ এখানে সবাই একসঙ্গে অংশ নেয়, একে অপরকে সম্মান করে এবং জয়-পরাজয়ের মধ্যেও মানবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।”

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন বলেন, “সম্প্রীতির চেতনা ছড়িয়ে দিতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। পুলিশ শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, সমাজে ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ চায় এই জেলার প্রতিটি মানুষ মিলেমিশে একে অপরের পাশে দাঁড়াক।”

তিনি আরও বলেন, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো—যুব সমাজকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা। খেলাধুলা মানুষকে কাছাকাছি আনে, বিভাজন কমায়, আর সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন তৈরি করে।”

দিনব্যাপী এই আয়োজনে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কেউ প্রতিযোগী হিসেবে, কেউবা দর্শক হিসেবে। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

এই আয়োজন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়—এটি ছিল সমাজে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। পাহাড়ি-বাঙালি, শিক্ষার্থী-পুলিশ, তরুণ-বয়োজ্যেষ্ঠ—সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে “সম্প্রীতি”র পতাকা তলে। রাঙ্গামাটির মতো বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে এই ধরনের কার্যক্রম কেবল আনন্দ নয়, সামাজিক বন্ধনকেও দৃঢ় করে।

একজন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী বলেন, “আমরা চাই এই উদ্যোগ প্রতি বছর হোক। এতে তরুণরা যেমন অনুপ্রাণিত হয়, তেমনি সমাজে একধরনের ইতিবাচক শক্তি তৈরি হয়।”

দিনশেষে স্পষ্ট হয়ে ওঠে একটি বিষয়—খেলাধুলা কেবল মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সম্পর্ক তৈরি করে, আস্থা বাড়ায়, আর ভিন্ন মতের মানুষকেও এক সারিতে দাঁড় করায়। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের “সম্প্রীতি মিনি ম্যারাথন ও হ্যান্ডবল ২০২৫” তাই শুধু একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল মানবিকতার এক জীবন্ত উদাহরণ।

Read Previous

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গার্মেন্ট খাতের ধস: অর্ডার বাতিল, কারখানা বন্ধ ও রপ্তানি সংকটে বাংলাদেশ

Read Next

দলীয় ভ্রমণের আগে যা জানা জরুরি: নিখুঁত প্রস্তুতিই এনে দেয় নিখুঁত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular