
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দীর্ঘ আলোচনার পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যে, জাতীয় সংসদের একটি উচ্চকক্ষ (Upper House) গঠিত হবে ১০০ আসনের, যার সদস্যরা সংখ্যানুপাতিক (Proportional Representation – PR) পদ্ধতিতে মনোনীত হবেন। অর্থাৎ, জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যে পরিমাণ ভোট পাবে, সে অনুযায়ী তাদের মধ্যে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের ২৩তম দিনের আলোচনা। এটি ছিল চলমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ। সভায় উপস্থিত ছিলেন দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। আলোচনার শুরুতেই সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, আজকের আলোচনার মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্বের সমাপ্তি টানার আশা করছেন তারা। আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সনদ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ভিন্নমত ও রাজনৈতিক অবস্থান
উচ্চকক্ষ গঠনে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি সমমনা দল। তবে, বিএনপি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, এনডিএম, এলডিপি—এই জোটগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তারা দাবি করেছে, সদস্য মনোনয়ন হওয়া উচিত জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনসংখ্যা অনুযায়ী।
এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উচ্চকক্ষ গঠনের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় একটি কক্ষ অপ্রয়োজনীয়।
উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও ভূমিকা
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের নিজস্ব কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না। তবে অর্থবিল বাদে অন্যান্য সব বিল দুই কক্ষেই উপস্থাপন করতে হবে।
- কোনো বিল উচ্চকক্ষে এক মাসের বেশি আটকে থাকলে, সেটি অনুমোদিত হিসেবে বিবেচিত হবে।
- উচ্চকক্ষ কোনো বিল প্রত্যাখ্যান করলে তা সংশোধনের সুপারিশসহ নিম্নকক্ষে ফেরত যাবে, এবং নিম্নকক্ষ তা আংশিক বা পুরোপুরি গ্রহণ কিংবা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।
সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিত্ব
আজকের আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা।
সভা পরিচালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন এবং আইয়ুব মিয়া।
সামনে কী আসছে?
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আলোচনার ভিত্তিতে একটি চূড়ান্ত সনদ প্রস্তুত করবে এবং তা রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে



