শাহবাগে ড্রাম থেকে খণ্ডিত মরদেহ; বন্ধুকে আসামি করে মামলা, পরিবারের দাবি সুষ্ঠু তদন্ত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর পুরো পরিবার এখনো স্তব্ধ। শুক্রবার সকালে শাহবাগ থানায় নিহত আশরাফুল হকের পরিবার নিখোঁজের ঘটনার সূত্র ধরে বন্ধু জরেজসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছে।

সকালে ঢামেক মর্গে আশরাফুলের মরদেহ নিতে উপস্থিত হন স্বজনরা। ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিবার বলছে, আশরাফুলের সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না। তিনদিন আগে বন্ধু জরেজের সঙ্গে তিনি ঢাকায় আসেন। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর ফোনে কল করলে একজন রিসিভ করে বলে—মোবাইলটি তিনি কুড়িয়ে পেয়েছেন। সেই থেকেই সন্দেহ আরও গভীর হয়।

তাদের দাবি স্পষ্ট—এই নৃশংস ঘটনার পেছনে যারা আছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

একদিন আগে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাইকোর্ট এলাকার পাশে নীল রঙের দুটি ড্রামের ভেতর থেকে ২৬ টুকরা খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে পরিচয় মিলছিল না। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহত আশরাফুল হক (৪২) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মো. আব্দুর রশিদ। বদরগঞ্জ থানার ওসি নুরুল আমিন সরকার জানান, ঢাকায় আসার পর থেকেই আশরাফুলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। বৃহস্পতিবার তারা থানায় একটি জিডি করেন। এর কিছুক্ষণ পরই ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের খবর আসে।

ঘটনার নৃশংসতা ও রহস্য এখন তদন্তের কেন্দ্রে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো বলছে, ড্রামে মরদেহ লুকিয়ে রাখা পরিকল্পিত হত্যারই ইঙ্গিত দেয়। তবে কী কারণে হত্যা, কারা এতে জড়িত—সবই এখনো তদন্তাধীন।

পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। তদন্ত শেষ হলে হয়তো পরিষ্কার হবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের অন্ধকার গল্প।

Read Previous

শ্রীলঙ্কা পর্যটনে রেকর্ড গতি: নভেম্বরেই ছুঁতে পারে গত বছরের মোট পর্যটক সংখ্যা

Read Next

নতুন আইনে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular