১৯/০৪/২০২৬
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহী জাপানি কনসোর্টিয়াম সুমিতোমো

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল, ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সুমিতোমো কর্পোরেশন। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বুধবার (১২ নভেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বিশেষ করে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাপানকে “একজন বিশ্বস্ত ও কৌশলগত উন্নয়ন অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) এবং অবকাঠামো খাতে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করছে।”

তিনি আরও বলেন, ইপিএ আলোচনার সফল সমাপ্তি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা রপ্তানিতে নতুন গতি আনবে এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, জাপানি কনসোর্টিয়াম সুমিতোমো বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। “আমরা যত দ্রুত সম্ভব বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAB) সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চাই,” তিনি বলেন।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, জাপান বহু বছর ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে—বিশেষ করে অবকাঠামো, জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে। তিনি বলেন, “ইপিএ স্বাক্ষর, অবকাঠামো অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে জাপানের অবদান দুই দেশের গভীর ও টেকসই অংশীদারিত্বের প্রতিফলন।”

উল্লেখযোগ্য যে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বিমান পরিবহন খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্রায় ২৫ মিলিয়ন যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই টার্মিনাল আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত এবং এর নির্মাণে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (JICA) আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুমিতোমোর অংশগ্রহণ তৃতীয় টার্মিনালের কার্যকর পরিচালনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের নতুন সুযোগও তৈরি করবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরিন জাহান, জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব ও অর্থনৈতিক ও উন্নয়নবিষয়ক প্রধান কারাসাওয়া শিনজু, এবং সুমিতোমো কর্পোরেশনের বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার হিরোনোরি ইয়ামানাকা

বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, এই সহযোগিতা শুধু বিমানবন্দর পরিচালনার মানোন্নয়নেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। জাপানি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান খাত একটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে — যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Read Previous

একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের নতুন রোডম্যাপ

Read Next

বিমান ও ভ্রমণ খাতে বড় পরিবর্তন: সরকার অনুমোদন দিল নতুন সংস্কার প্যাকেজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular