
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: টানা চারদিন দরপতনের পর হঠাৎ করেই বেড়েছে ডলারের দাম। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) মাত্র একদিনেই ডলার প্রতি ১ টাকা ৪০ পয়সা বাড়ায় বিনিময় হারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ মূল্য দাঁড়ায় ১২১ টাকা ৫০ পয়সা, যা সোমবার ছিল ১২০ টাকা ১০ পয়সা। ডলারের গড় দাম এখন ১২১ টাকা ১১ পয়সা। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও আমদানি ব্যয় তেমন না বাড়ায় কিছুদিন ধরেই ডলারের চাহিদা ছিল নিম্নমুখী। এতে করে ডলারের দামও কমতে শুরু করেছিল।
তবে চলতি সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার কিনে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনে। এর প্রভাবেই ডলারের দরপতন থেমে গিয়ে উল্টো বাড়তে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা, আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সহায়তা এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।
এছাড়া আইএমএফ, এডিবি, জাইকা এবং এআইআইবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বড় অঙ্কের সহায়তায় দেশের রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রভাব পড়েছে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতেও। ডলার-রেট স্বস্তিকর থাকলে বিদেশে ভ্রমণ বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়া পর্যটকদের জন্য খরচও হয় তুলনামূলকভাবে কম। তদুপরি, দেশে বেড়ে যাওয়া রিজার্ভের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আস্থা বাড়বে বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোর ওপর, যা ভবিষ্যতে inbound tourism অর্থাৎ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই অগ্রগতি শুধু বিনিময় হার নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনছে। ফলে আগামি দিনে বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা কিংবা পর্যটন খাতে ডলার নিয়ে যাওয়া আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক



