পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য না থামালে ভারতের ওপর আরও কড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগেই ভারতীয় রপ্তানি পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধি করেছে ওয়াশিংটন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের রপ্তানি চার মাসে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর মধ্যেই রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখায় মোদি সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেছেন, “ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি বন্ধ না করে, তাহলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও বড় ধরনের শুল্ক বসানো হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলো।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং মোদি নাকি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে দিল্লি। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত জানিয়ে দেয় — সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে এমন কোনো ফোনালাপই হয়নি। অর্থাৎ, দিল্লি সরাসরি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অস্বীকার’ করল।
ইতোমধ্যেই টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ একাধিক খাতে ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন হুমকি বাস্তবায়িত হলে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম রপ্তানি বাজার সম্পূর্ণ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে চাপের মুখে রাশিয়া তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রি করছে। এ সুযোগে ভারত দ্রুত রুশ তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে। আর ঠিক এ জায়গাতেই আপত্তি ট্রাম্প প্রশাসনের—ওয়াশিংটনের ভাষায়, “মস্কো সস্তা তেল বিক্রি করে যুদ্ধ চালানোর অর্থ জোগাচ্ছে, আর ভারত সে পথটাই শক্ত করছে।”
ভারতের পক্ষ থেকে এখনো পরিষ্কার করে কিছু জানানো না হলেও ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির পর নয়াদিল্লি কী অবস্থান নেয়, এখন তা নজরে রেখেছে আন্তর্জাতিক মহল।



