
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ইন্টারনেটের ট্রেন্ড বদলাতে সময় লাগে না, আর এবার সেই ঢেউয়ে উঠে এল এক শিশু—রায়ান আর্কান ডিকা, সবার কাছে শুধু ‘ডিকা’। চলন্ত নৌকার গলুইতে দাঁড়িয়ে তার শান্ত ভঙ্গির নাচ এখন সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন ট্রেন্ড, যার নাম—অরা ফার্মিং। বয়স মাত্র ১১, কিন্তু প্রভাব যেন একজন পূর্ণাঙ্গ পারফর্মার।
ডিকার শুরুটা ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা প্রতিযোগিতা ‘পাচু জলুর’ থেকে। রিয়াউয়ের মানুষের কাছে এটি শুধু প্রতিযোগিতা নয়—এটি উৎসব, সংস্কৃতি আর গৌরবের প্রতীক। ২০ থেকে ৪০ মিটার লম্বা সরু নৌকায় প্রায় ৫০ জন মাঝি দাঁড়িয়ে ছুটে চলে নদীর বুক চিড়ে। আর গলুইয়ের মাথায় দাঁড়িয়ে নাচ করেন একজন বিশেষ পারফর্মার, যাঁদের বলা হয় ‘তুকাং তারি’ — যার কাজ মাঝিদের উজ্জীবিত করা।
মাত্র ৯ বছর বয়সে ডিকা প্রথম এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। পরিবারের রক্তেই আছে এই ঐতিহ্য—বাবা ও চাচা দুজনই ছিলেন পাচু জলুর প্রতিযোগী। নাচ শেখানোর কেউ ছিল না, ডিকার ভাষায়—“হঠাৎ মাথায় এলো আর নেচে ফেললাম।” সেই স্বতঃস্ফূর্ততাই তাকে আলাদা করে তুলেছে।

কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল ট্রেন্ড?
‘লেনসা রামস’ নামে এক ব্যবহারকারীর পোস্ট করা টিকটক ভিডিও থেকেই শুরু। কিন্তু যে বিষয়টি বিশ্বজুড়ে মানুষকে টানল, তা হলো ডিকার ঠাণ্ডা মাথার আত্মবিশ্বাস—কোনো জটিল স্টেপ নয়, কেবল হাত-পা দোলানো আর অদ্ভুত এক ক্যারিশমা। সেখান থেকেই শব্দটি ভাইরাল—Aura Farming—অর্থাৎ নিজের উপস্থিতিকে বারবার একই স্টাইলে এমনভাবে তুলে ধরা, যাতে চারপাশে একটা ব্যক্তিত্বের বলয় তৈরি হয়।
এখন শুধু রিয়াউ নয়—এই নাচ করে ভিডিও বানিয়েছেন এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসি, মার্কিন ফুটবলারেরা গোল উদযাপনে এটি করছেন, এমনকি জনপ্রিয় বেসবল দল পার্টি অ্যানিম্যালসও মাঠে করেছে ডিকার স্টেপ।
খেতাব পেল ‘পর্যটন দূত’
এই জনপ্রিয়তাকে দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরার বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছে রিয়াউ প্রশাসন। তাই ডিকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ‘পর্যটন দূত’ হিসেবে। গভর্নর আবদুল ওয়াহিদ নিজ হাতে তাকে দিয়েছেন ২০ মিলিয়ন রুপিয়াহ শিক্ষাবৃত্তি। অনুষ্ঠানে ডিকা আবার সেই নাচ করে দেখালে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।
ডিকার কথায়, “আমি কখনো ভাবিনি যে গভর্নরের সামনে নাচব। এটা স্বপ্নের মতো।”
ছোট গ্রামের শিশু থেকে বৈশ্বিক আইকন
২০১৪ সালে রিয়াউয়ের কুয়ান্তান সিঙ্গিঙ্গি গ্রামের জন্ম এই বাচ্চাটির। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র, হাতে মোবাইল নেই, তবু তার নাচ এখন লক্ষ মানুষের স্ক্রিনে ঘুরছে। পাচু জলুর যে একদিন বিশ্বমঞ্চে আলোচিত হবে—সেটি হয়তো স্থানীয়রাও ভাবেননি।
কিন্তু একটাই বিষয় প্রমাণিত—সংস্কৃতি যখন হৃদয় থেকে উঠে আসে, তখন সেটি ভাইরাল হতে বড় মার্কেটিং লাগে না, লাগে শুধু একফোঁটা স্বতঃস্ফূর্ততা।



