পাহাড়ে প্রতিবন্ধী নারীর ওপর গণধর্ষণ — অবিচারের বিরুদ্ধে রাঙামাটিতে ক্ষোভের বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি। পর্যটন সংবাদ : রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের চংড়াছড়ি মুখ এলাকায় এক প্রতিবন্ধী মারমা নারীকে স্বজাতি তিন যুবকের ধারাবাহিক ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনা পাহাড় জুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারীর ন্যায়বিচারের দাবিতে সোমবার বিকেলে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) জেলা শাখা।

পিসিসিপির অভিযোগ—অনুচিং মারমা (৫০), কালা মারমা (৫৫) ও মং উ মারমা (৩৫) নামের তিন যুবক ওই নারীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন করে। কিন্তু এই নৃশংস ঘটনার পরেও আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার না হয়ে স্থানীয় প্রথাগত রীতিতে ‘সামাজিক বিচার’ বসে, যেখানে অভিযুক্তদের মাত্র ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আর সমাজের নামে শুকর কেনার জন্য ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—একই বিচারে ভিকটিমকেও ‘সমাজের নিয়ম ভঙ্গের’ অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পিসিসিপি এই রায়কে প্রকাশ্যে ‘অবিচার’ ঘোষণা করে প্রত্যাখ্যান করে।

আইনের আশ্রয় নিতে বাধা

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের সশস্ত্র অংশের কারণে ভিকটিম পরিবার আইনি সহায়তা নিতে সাহস পাচ্ছে না। এমনকি ভিকটিমকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তারা বলেন, পাহাড়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির ছায়ায় বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা চরমভাবে বাঁধাগ্রস্ত।

দ্বিমুখী নীরবতার অভিযোগ

বক্তারা মন্তব্য করেন, “যখন কোনো বাঙালি কর্তৃক পাহাড়ি নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, তখন পাহাড়ের সুশীল মহল ও উপজাতি সংগঠনগুলো তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করে। কিন্তু স্বজাতির হাতে এক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও ইউপিডিএফ, জেএসএস কিংবা কেএনএফ—কেউ কোনো বিবৃতি দেয়নি। এই নীরবতা পাহাড়ে মানবাধিকারের প্রশ্নকে রাজনৈতিক রঙে ঢেকে ফেলছে।”

দাবি — অবিলম্বে আইনি বিচার, ভিকটিমের সুরক্ষা

সমাবেশে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ প্রশ্ন তোলেন, “এই অনাগত শিশুর দায় নেবে কে? সমাজ কি কেবল টাকার বিনিময়ে বিচার সেরে ফেলবে?” তিনি ঘোষণা দেন — ভিকটিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের রাষ্ট্রীয় আইনের আওতায় আনতেই হবে।

পিসিসিপি সরকার ও প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে—

  • ভিকটিমকে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া
  • অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মুখোমুখি দাঁড় করানো
  • পাহাড়ে প্রথাগত বিচারের নামে অবিচারের সংস্কৃতি বন্ধ করা

এই ঘটনার পর পাহাড়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—প্রান্তিক নারীর সম্মান কি এখনও প্রথা আর রাজনীতির টানাহেঁচড়ার বলি হয়ে থাকবে।

Read Previous

গলুইয়ে নেচে বিশ্ব মাতাল, ১১ বছরের ডিকা এখন রিয়াউয়ের ‘পর্যটন দূত’

Read Next

আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর: মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাসের প্রাণকেন্দ্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular