
ছবি : রয়টার্স
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালাক্লিয়ায় রাতের আঁধারে ছোড়া রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্রই আবার শহরটিকে কাঁপিয়ে দিল। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আবাসিক এলাকায় সরাসরি আঘাত লাগায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা দশে পৌঁছেছে, আর তাদের মধ্যে কিশোরও আছে। হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে নয়জনকে।
খারকিভ অঞ্চলের প্রশাসনের প্রধান ওলেহ সিনেহুবভ টেলিগ্রামে লিখেছেন, বিস্ফোরণে একাধিক ভবনের দেয়াল ধসে পড়ে ভেতরের ফ্ল্যাটগুলো বসবাসযোগ্য নেই। শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ভিটালি কারাবানোভও নিশ্চিত করেছেন ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনো পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। রাশিয়া এই হামলা নিয়ে কিছু বলেনি।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে স্বাভাবিক উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। রাশিয়া বলছে, তারা জাপোরিঝিয়ার দুটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন দাবি করছে, মালা টোকমাচকা এলাকায় অগ্রগতি তাদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। এর প্রভাবে হুলিয়াইপোল আর ওরিকিভ শহর দুই দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কিয়েভ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
দক্ষিণে ওডেসাতেও গতরাতে পরিস্থিতি ভালো ছিল না। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকাটির একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ শক্তি–সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ক্রেমলিন দাবি করেছে। পাল্টা হিসেবে দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের নভোপাভলিভকার কাছে রুশ বাহিনীর আক্রমণ প্রতিরোধের কথা জানিয়েছে কিয়েভ, সঙ্গে রাশিয়ান সেনা হতাহতের সংখ্যাও উল্লেখ করেছে তারা।
সব মিলিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা আবার দেখিয়ে দিচ্ছে যুদ্ধের গতি একেবারে বদলে গেছে। ড্রোন এখন প্রধান অস্ত্র, আর লক্ষ্য—পরিবহন ও শক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এই ধারা কতদিন ধরে চলবে বা কোথায় গিয়ে থামবে, সেটা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
তবু এক ঝলক আশাবাদ জুগিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার কথায়, গত কয়েক মাসের আলোচনায় রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত সম্ভাব্য সমাধানের দিকে আগাচ্ছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন—উভয় পক্ষের বর্তমান হামলা অর্থনীতি ও বেসামরিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদে আরও চাপ তৈরি করবে।



