
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: প্রথম ধাপে আফ্রিকার জাম্বিয়া ও মালাউই দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে এই নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ভিসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন অনধিকার প্রবেশ বা অবস্থানের ঘটনা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায়, ভিসার অপব্যবহার রোধে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় কিছু দেশের পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫,০০০ ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) জামানত জমা দেওয়ার বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন নিয়ম প্রথম ধাপে আফ্রিকার দুটি দেশ — জাম্বিয়া ও মালাউইয়ের নাগরিকদের জন্য কার্যকর করা হয়েছে। এই দুই দেশ বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে নাগরিকদের জন্য এত বড় পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা সহজ নয়। ফলে এটি এক ধরনের কঠোর ভিসা নিয়ন্ত্রণ ও ‘অঘোষিত ভিসা নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জামানত হিসেবে জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, যদি ভিসাধারীরা ভিসার শর্ত ভঙ্গ না করে, নির্ধারিত সময়ের আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে, অথবা ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে নিজেদের শর্ত পূরণ করেন। তবে জামানত জমা দিলেও ভিসা পাওয়া নিশ্চয়তা নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভিসার অপব্যবহার ও দীর্ঘমেয়াদি অবৈধ অবস্থান কমানোর লক্ষ্যে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে। গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে অভিবাসীদের ওপর কঠোর আইন প্রয়োগ ও ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া কঠোর করার প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে নতুন এই জামানত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে— দরিদ্র দেশগুলোর নাগরিকেরা এই পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে জোগাড় করবেন এবং এর ফলে বৈধ পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদনকারীরা কি প্রভাবিত হবেন।
এ ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে অন্যান্য দেশের জন্যও এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করছে।



