যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্কে ভারতের রপ্তানি খাত বিপর্যস্ত, শঙ্কায় চামড়া-চিংড়ি-পোশাক শিল্প

 ডেস্ক রিপোর্ট | পর্যটন সংবাদ: ভারতের রপ্তানি নির্ভর প্রধান খাতগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে যাচ্ছে। চামড়া, রাসায়নিক, জুতা, রত্ন ও গয়না, বস্ত্র এবং চিংড়ি—এই সব খাতের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে আজ (৭ আগস্ট) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি বন্ধে ভারতের অনড় অবস্থানের ‘শাস্তিস্বরূপ’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও রাশিয়ার তেল আমদানিকারী অন্যান্য দেশ যেমন চীন ও তুরস্ক, তারা এই শাস্তিমূলক শুল্কের আওতায় পড়েনি।

ভারতের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিটিআরআই (GTRI) জানিয়েছে, এই শুল্কে ভারতীয় পণ্যের দাম আমেরিকায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, ফলে রপ্তানি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

যেসব খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে:

  • বস্ত্র/পোশাক: $10.3 বিলিয়ন রপ্তানি, নতুন শুল্ক হার ৬৩.৯%
  • রত্ন ও গয়না: $12 বিলিয়ন রপ্তানি, শুল্ক ৫২.১%
  • চিংড়ি: $2.24 বিলিয়ন রপ্তানি, মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৩৩.২৬%
  • চামড়া ও জুতা: $1.18 বিলিয়ন রপ্তানি
  • রাসায়নিক: $2.34 বিলিয়ন রপ্তানি, জৈব রাসায়নিকের ওপর ৫৪% পর্যন্ত শুল্ক
  • যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি: প্রায় $9 বিলিয়ন রপ্তানি, শুল্ক ৫১.৩%

শিল্পখাতের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া:

কলকাতাভিত্তিক সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেগা মোডার ব্যবস্থাপনা পরিচালক যোগেশ গুপ্ত জানান, ভারতীয় চিংড়ির প্রতিযোগিতায় এখন যুক্তরাষ্ট্রে ইকুয়েডরের চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়বে, কারণ তাদের শুল্ক মাত্র ১৫ শতাংশ।

ভারতের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন সিআইটিআই এক বিবৃতিতে বলেছে, “৫০ শতাংশ শুল্ক হার গভীর উদ্বেগজনক। এটি আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতা শক্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেবে।”

রত্ন ও গয়নার খাতে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান কামা জুয়েলারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কলিন শাহ বলেন, “এই শুল্কের ফলে ভারতের রপ্তানি কার্যত ৩০-৩৫ শতাংশ প্রতিযোগিতাহীন হয়ে পড়েছে। অনেক কার্যাদেশ স্থগিত হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য এই বাড়তি খরচ টেকসই নয়।”

সম্ভাব্য উত্তরণ?

রপ্তানিকারকরা আশাবাদী, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্যচুক্তির আলোচনায় অগ্রগতি হলে এই সংকট নিরসন সম্ভব হতে পারে। অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রোমোর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যদবেন্দ্র সিং সচান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানিকারকদের বিকল্প বাজার খুঁজে বের করতেই হবে।”

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল $১৩১.৮ বিলিয়ন। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ছিল $৮৬.৫ বিলিয়ন এবং আমদানি $৪৫.৩ বিলিয়ন।

Read Previous

টাঙ্গুয়ার হাওড়ে পর্যটনের নামে ভয়াবহ শব্দদূষণ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

Read Next

ইংলিশ চ্যানেল জয় করে লাল-সবুজের গর্ব বাড়ালেন নিকলীর নাজমুল হক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular