
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে থাকা উড়োজাহাজে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। গত এক মাসের মধ্যে অন্তত ১৬টি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বিমানের ফ্লাইট শিডিউল ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা দেশি-বিদেশি বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিমানবন্দরে থাকা যাত্রী এবং নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির খবর আগেভাগেই জানানো হলেও ফ্লাইট সময়মতো চালানোর জন্য প্রকৃত করণীয় হয় না। এমনকি দীর্ঘ সময় অবহেলা ও দায়সারা প্রকৌশল বিভাগ, অভ্যন্তরীণ তদারকির ঘাটতি এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের অভাবই এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যান্ত্রিক ত্রুটিগুলো আকস্মিক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার ফলাফল। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বিমানের প্রতিটি যন্ত্রাংশের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সঠিক মেরামতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল হাসান মাহমুদ সিদ্দিক জানান, এই ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আকাশ থেকে ফ্লাইট ফেরত আসার কারণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিটি উড়োজাহাজের পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাবেক এক বৈমানিক মন্তব্য করেন, “এ ধরনের গাফিলতি বিমানের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই প্রকৌশল বিভাগে দক্ষ প্রকৌশলী নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা আনা অত্যন্ত জরুরি।”
একই সঙ্গে যাত্রীদেরও আশা, বিমান বাংলাদেশ দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদান করবে, যাতে দেশের পর্যটন ও বিমানসেবায় আস্থা ফিরে আসে।



