
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: স্বর্ণ চোরাচালান রোধে ঢাকা কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন একটি কৌশল হাতে নিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য বয়ে এনেছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, দুবাই ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোপনে নিয়োগকৃত ইনফরমারদের মাধ্যমে চোরাচালানকারীদের গতিবিধি নজরদারি করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহের ফলে এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ভাঙ্গন ঘটানো সম্ভব হয়েছে।
গত কয়েক মাসে এই নজরদারি কার্যক্রম চালু হওয়ায় সিঙ্গাপুর, দুবাই ও মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের প্রধান সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (KLIA) সদ্য এক যৌথ অভিযানে চার বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (AKSES)। অভিযানে হাজার হাজার রিঙ্গিত মূল্যের স্বর্ণালংকার, স্মার্টফোন, নগদ টাকা ও আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।
ঢাকা কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার জানিয়েছেন, “ইনফরমার নেটওয়ার্ক এখন স্বর্ণ চোরাচালান রোধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। যতদিন এই নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকবে, ততদিন চোরাচালানকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।” এ কার্যক্রমের সফলতা বাড়াতে জেদ্দা, মদিনা ও মাস্কাট বিমানবন্দরে ইনফরমার নিয়োগের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দক্ষ ও সাহসী ব্যক্তিদের নিয়োগে বিশেষ বাজেটের প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে।
একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ৮.১২০ কেজি স্বর্ণ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তির মাধ্যমে স্বর্ণ পাচারের মূল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইনফরমার নিয়োগ এবং কাস্টমসের সংহত নজরদারির মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালানের বিরুদ্ধে লড়াই এখন কার্যত নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশের বৈধ ব্যবসায়িক ও পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বয়ে আনবে।
পর্যটন সংবাদ — নিরাপদ ও স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত পরিবেশ ও কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন



