মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছয়টি প্রধান মধ্যপ্রাচ্য গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সংস্থাটির একাধিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দাম্মাম (সৌদি আরব), দোহা (কাতার), দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ (সংযুক্ত আরব আমিরাত) এবং কুয়েত সিটি (কুয়েত) এই ছয়টি রুটে ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এসব রুটে কোনো ফ্লাইট চালু করা হবে না।

এই সিদ্ধান্ত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে এবং সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে যে ৮ মার্চ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বাড়ানো হয়েছে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যত দ্রুত সম্ভব ফ্লাইট পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যা বেসামরিক বিমান চলাচলকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

এই স্থগিতাদেশের ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ এসব রুটের মাধ্যমে যাতায়াত করে। অনেকে ছুটিতে দেশে এসে এখন ফিরতে পারছেন না, আবার যারা নতুন করে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাদের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত কয়েকদিনে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে বিমানের ফ্লাইট ছাড়াও অন্যান্য এয়ারলাইনসের ফ্লাইট রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। স্থগিত রুটের টিকিটধারীদের কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই পুরো টাকা রিফান্ড অথবা ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন (রি-বুকিং) করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা বিমানবন্দরে না গিয়ে সরাসরি বিমানের সেলস সেন্টার, কল সেন্টার (১৩৬৩৬ দেশি নম্বর অথবা +৮৮০৯৬১০৯১৩৬৩৬ আন্তর্জাতিক) বা ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই ছয়টি রুট ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গন্তব্য যেমন জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ (সৌদি আরব) এবং মাসকাট (ওমান) রুটে বিমানের ফ্লাইট যথারীতি চলছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের সতর্ক থাকতে এবং সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে যাত্রা করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এই ঘটনা বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবার ও অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যাত্রী ও প্রবাসী সম্প্রদায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

Read Previous

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণে ভিজিটর ভিসার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে

Read Next

রমজানে মিঠামইন হাওর: প্রকৃতির কোলে আধ্যাত্মিক শান্তির অপরূপ যাত্রা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular