ঢাকার মার্কিন দূতাবাস আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণে ভিজিটর ভিসার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণ (ইন্টারকান্ট্রি অ্যাডপশন) প্রক্রিয়ায় B1/B2 ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং এতে গুরুতর আইনি ও অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। দূতাবাসের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এই পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যবসা, পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেওয়া B1/B2 ভিসা দিয়ে বিদেশ থেকে শিশু দত্তক নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়াগুলোকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের কার্যকলাপ হেগ কনভেনশন অন ইন্টারকান্ট্রি অ্যাডপশন (Hague Adoption Convention)-এর নিয়ম-কানুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন এবং শিশুর জন্মদেশের (যেমন বাংলাদেশের) আইনি কাঠামোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। হেগ কনভেনশন আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণকে নিয়ন্ত্রণ করে যাতে শিশুর সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা পায়, অবৈধ বাণিজ্য বা অপব্যবহার রোধ হয় এবং সব পক্ষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করলে শিশুর সুরক্ষা ও আইনি অধিকারের প্রশ্ন উঠে আসে।

এছাড়া, দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে যে, জেনেশুনে প্রতিষ্ঠিত আইনি চ্যানেল এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে B1/B2 ভিসার জন্য আবেদন করলে তা মার্কিন অভিবাসন আইনের অধীনে ভিসা জালিয়াতি (visa fraud) হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর ফলে ভিসা প্রত্যাখ্যান, ভবিষ্যতে ভিসা নিষিদ্ধকরণ, জরিমানা এমনকি ফৌজদারি মামলার মতো গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। দূতাবাস আরও জানিয়েছে যে, এ ধরনের অপচেষ্টা শুধু দত্তক গ্রহণকারীদের জন্যই নয়, শিশুর জন্যও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ আইনি প্রক্রিয়া না মানলে দত্তকের স্বীকৃতি বা নাগরিকত্বের প্রশ্ন জটিল হয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণ একটি জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দত্তক নিতে চাইলে অবশ্যই USCIS (U.S. Citizenship and Immigration Services)-এর মাধ্যমে I-800A ও I-800 ফর্ম জমা দিতে হয়, হোম স্টাডি সম্পন্ন করতে হয় এবং হেগ কনভেনশন-সম্মত দেশ হলে সংশ্লিষ্ট সেন্ট্রাল অথরিটির অনুমোদন নিতে হয়।বাংলাদেশ হেগ কনভেনশনের সদস্য না হলেও, মার্কিন নিয়ম অনুসারে অ-হেগ প্রক্রিয়ায়ও কঠোর শর্ত পালন করতে হয়। দূতাবাসের এই সতর্কতা দত্তক আগ্রহীদের সঠিক আইনি পথ অনুসরণ করতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে।

এই বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা travel.state.gov-এর Intercountry Adoption সেকশন দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং কোনো অননুমোদিত এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারীর প্রলোভনে না পড়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

Read Previous

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলটদের জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ৮ জনের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিজ্ঞতা দেখিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ

Read Next

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular