বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলটদের জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ৮ জনের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিজ্ঞতা দেখিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত আটজন পাইলটের বিরুদ্ধে জাল লগবুক, ভুয়া উড্ডয়ন ঘণ্টা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে চাকরি গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সংস্থার ফ্লাইট সেফটি বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানের বিরুদ্ধেও অতীতে অসদাচরণ এবং শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যা সংস্থার অভ্যন্তরে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, ফলে বিমান কর্তৃপক্ষ একটি চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই পাইলটদের মধ্যে কয়েকজন নির্ধারিত উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছাড়াই বাণিজ্যিক ও পরিবহন পাইলট লাইসেন্স অর্জন করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ক্যাপ্টেন আব্দুর রহমান আকন্দের লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় ২৫০ ঘণ্টা উড্ডয়নের পরিবর্তে তার লগবুকে মাত্র ১৫৪.৩৫ ঘণ্টা উল্লেখিত ছিল, যা প্রায় ৯৫ ঘণ্টার ঘাটতি সত্ত্বেও তিনি কয়েক মাস ধরে ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। একইভাবে, ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস আহমেদের ক্ষেত্রে একই উড্ডয়ন ঘণ্টা দুবার গণনা করে প্রায় ৩৫০ ঘণ্টার অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। ক্যাপ্টেন আনিসের প্রয়োজনীয় ২০০ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ১৬২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।

অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাবের নথিতে পাইলট ইন কমান্ড হিসেবে মাত্র ৩৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট দেখানো হয়েছে, যা পরে জাল সনদের সাহায্যে ১৫৫ ঘণ্টায় বাড়িয়ে তোলা হয়। এছাড়া ক্যাপ্টেন নুরুদ্দিন আহমেদ, ইউসুফ মাহমুদ এবং মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধেও অনুরূপ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, লাইসেন্স যাচাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু ফ্লাইট পরিদর্শকের নিজেদের লাইসেন্স বৈধ নয় বা সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা নেই, যা সমগ্র লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পাইলটদের দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করলে জরুরি অবস্থায় ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়ে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এদিকে, চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানের বিরুদ্ধে নারী কেবিন ক্রু এবং ফার্স্ট অফিসারদের প্রতি আপত্তিকর আচরণ, ককপিটে অশোভন ভাষা ব্যবহার, নিষিদ্ধ এলাকায় ধূমপান এবং অ্যালকোহল পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল একটি লিখিত অভিযোগে এসব উল্লেখ করা হয়েছে, যা ককপিটের পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তুলেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তিনি পূর্ণাঙ্গ সেফটি প্রশিক্ষণ না নিয়েই এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম জানান, জাল সনদধারী পাইলটদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার এবং লাইসেন্স প্রদানকারী বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও দায়মুক্ত নয়। কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত লাইসেন্সগুলো তদন্তাধীন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং ক্যাপ্টেন ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

Read Previous

বিইআরসি মার্চ মাসের জন্য জেট ফুয়েলের দাম বাড়ালো

Read Next

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণে ভিজিটর ভিসার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular