
নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ: ঢাকা শহরের রাস্তায় এখন সবচেয়ে চোখে পড়া যানবাহন হচ্ছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। শুধু রাজধানী নয়, দেশের সব বিভাগীয় শহরেই এদের আধিপত্য বেড়েছে। নগরবাসী বলছেন, এই যানবাহনের কারণে ট্রাফিক জট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নিয়ম না মানা, রাস্তার মাঝখানে যাত্রী তোলা এবং হুট করে ঘুরে দাঁড়ানোর কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।
মালিবাগের বাসিন্দা চাকরিজীবী সুমনা হক অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার পথে এলোমেলোভাবে দাঁড়ানো অটোরিকশার কারণে দ্বিগুণ সময় লেগে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী নুরুল আলমও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, সড়কের বিশৃঙ্খলা ও যানজটের কারণে ব্যবসায়িক কাজে দেরি হচ্ছে, সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছে না।
ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারাও সমস্যার কথা স্বীকার করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, অধিকাংশ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই, চালকদের প্রশিক্ষণও নেই। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশরাফ উদ্দিন মনে করেন, বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামো এই ধরনের যানবাহনের জন্য উপযুক্ত নয়। তার ভাষায়, অটোরিকশাগুলো নগরের স্বাভাবিক পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে দিচ্ছে। পরিবেশবিদদের দাবি, পুরোনো ব্যাটারি ফেলার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভবিষ্যতে এগুলো মারাত্মক পরিবেশ দূষণের কারণ হবে।
তবে চালকরা বলছেন, এটাই তাদের জীবিকার একমাত্র ভরসা। মতিঝিলের চালক রফিকুল ইসলাম জানান, দিনে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হয়, সেই টাকায়ই সংসার চলে। রাজশাহীর চালক সালামত আলীও বলেন, গরিব মানুষের পক্ষে অন্য কাজ পাওয়া কঠিন। যাত্রীও প্রচুর, তাই গাড়ি চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে চালকদের জীবিকার প্রশ্ন, অন্যদিকে নগরজীবনের ভোগান্তি। সমস্যার সমাধান না হলে এবং বিকল্প কর্মসংস্থান না দিলে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বাংলাদেশের শহরগুলোকে আরও অচল করে দেবে।
-মুহাম্মাদ শফিকুল আশরাফ



