
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দেশের বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে গত সপ্তাহে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নজরে এসেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদত্যাগ করেছেন। ব্যাংকগুলো হলো—সাউথইস্ট ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক পদত্যাগ ব্যাংকিং খাতে প্রশাসনিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকও।
কী ঘটেছে?
- সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি নুরুদ্দিন মো. ছাদেক হোসেন পদত্যাগ করেন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। তবে এর আগেই চলতি বছরের ৪ মে তাঁকে তিন মাসের ছুটিতে পাঠায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
- মেঘনা ব্যাংকের এমডি কাজী আহ্সান খলিল গত বছর তিন বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও মাত্র ১৫ মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, নতুন পরিচালনা পর্ষদ হঠাৎ তাঁকে ছুটিতে পাঠাতে চায়, যা মেনে না নিয়ে তিনি নিজেই সরে দাঁড়ান।
- বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন পদত্যাগ করেন ব্যাংকে ৪৮ কোটি টাকা সুদ মওকুফ ঘিরে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বিরোধের জেরে। জানা যায়, পর্ষদের এক সভায় তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, একসঙ্গে তিন এমডির পদত্যাগের পেছনে কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এমডি পদত্যাগ করলে তা যাচাই-বাছাইয়ের পরই কার্যকর হয়।
রাজনৈতিক ও মালিকানা পটভূমি
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই তিন ব্যাংকের মালিকানার পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
- কমার্স ব্যাংক পরিচালিত হতো এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে।
- মেঘনা ব্যাংক পরিচালিত হতো সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলের মাধ্যমে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক এই তিন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এতে করে মালিকানা ও পরিচালনার মধ্যে টানাপোড়েন আরও প্রকট হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মত
বিনিয়োগবান্ধব ও সুশাসনভিত্তিক ব্যাংকিং খাত গড়তে হলে এমডি ও পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে সুসম্পর্ক অপরিহার্য। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশের আর্থিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।



