বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ পদে বিতর্কিত নিয়োগ প্রচেষ্টা: সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপককে এমডি-ডিএমডি করার পায়তারায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে একজন সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপককে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থানকারী ওই ব্যক্তি বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে সংস্থার অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ স্পষ্ট সুপারিশ করেছিল যে ভবিষ্যতে তার নাম কোনো বোর্ড সভায় উত্থাপন না করা হয়। তারপরও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

বিমানের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একজন অধস্তন ও দীর্ঘদিন সংস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন কর্মকর্তাকে শীর্ষ পদে বসালে সংস্থাটি মারাত্মক স্থবিরতায় পড়তে পারে। বর্তমান পরিচালকদের অধিকাংশই তার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন। এমন নিয়োগে শীর্ষ পর্যায়ে চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই ব্যক্তি ২০০৭ সালে জুনিয়র ওয়ানডাম অফিসার হিসেবে শুরু করে মার্কেটিং বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে লন্ডনে কান্ট্রি ম্যানেজারের অধীনে কাউন্টার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। এরপর আর দেশে ফেরেননি এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক।

৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে এসে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এমডি পদের জন্য আবেদন করলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এখন আবার একই পদে নিয়োগের জন্য তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ১৯-২০ বছর সংস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পর তাকে হঠাৎ শীর্ষ পদে বসালে কমান্ড চেইন ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দেবে।

আরও গুরুতর আশঙ্কা হলো—ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নেওয়া একজনকে উচ্চপদে পুনর্বহাল করলে একই সুবিধা দাবি করতে পারেন বিমানের আরও ২২০০ থেকে ২৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে সংস্থার আর্থিক বোঝা বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা বিমানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। ইতিমধ্যে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতাকে উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত নিলে বিমানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে।

সরকারের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিমানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই বিতর্ক যে সংস্থাটির সুনাম ও দক্ষতায় বড় আঘাত হানতে পারে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

Read Previous

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে যাওয়ার আগে আর্থিক সক্ষমতা ও সঠিক কাগজপত্র নিশ্চিত করুন: ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের জরুরি পরামর্শ

Read Next

ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular