
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা, লাগেজ পেতে দেরি, টিকিটিং জটিলতা—এই অভিজ্ঞতাগুলো বিশেষ করে প্রবাসী যাত্রীদের কাছে নতুন কিছু নয়। এখানেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসেই তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, বিমানবন্দর সেবার সবচেয়ে দুর্বল জায়গাগুলোতে দ্রুত ও দৃশ্যমান সংস্কার আসছে, যার মূল লক্ষ্য যাত্রী ভোগান্তি কমানো।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার—যাত্রীরা যেন ইমিগ্রেশন শেষ করার সময়ই তাদের লাগেজ হাতে পান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগেজ বেল্টের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা অপ্রয়োজনীয় হয়রানির অবসান ঘটানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, বিষয়টি শুধু লাগেজ নয়; টিকিটিং থেকে শুরু করে পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, এটি কোনো একক দপ্তরের কাজ নয়। বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যায়ের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এজন্য ইতিমধ্যেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় শুরু হয়েছে। লাগেজ ডেলিভারিতে দীর্ঘসূত্রতা কেন হয়, কোথায় জট তৈরি হয়, কারা এর সুযোগ নেয়—সবকিছু খতিয়ে দেখে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই সংস্কারের আরেকটি বড় দিক হলো দুর্নীতি দমন। মিল্লাত বলেন, লাগেজ হ্যান্ডলিং কিংবা টিকিটিং ব্যবস্থায় অনিয়মের সুযোগ থাকলে ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে টিকিটিং সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার ওপর তিনি জোর দেন। অনেক সময় দেখা যায়, যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে ফিরে যান, অথচ বিমান খালি আসন নিয়েই উড়ে যায়। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে—এমন অভিযোগ নতুন নয়। সরকার এই চক্র ভাঙতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে যারা বিমানবন্দর সেবার নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়েছে, তাদের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গত ১৫ বছরে হওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। যেখানে প্রমাণ মিলবে, সেখানেই তদন্ত হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, বিমান চলাচল ও পর্যটন খাত এখনও পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত নয়, তবে সরকার এই বাস্তবতা মেনেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
সংস্কারের সময়সীমা নিয়ে মিল্লাত বাস্তববাদী অবস্থান নেন। তিনি বলেন, রাতারাতি সবকিছু বদলে যাবে—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঠিক নয়। তবে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আসবে, এবং সেই পরিবর্তন যাত্রীরা অনুভব করতে পারবেন খুব শিগগিরই। তার আশা, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিমানবন্দরে কিছু ইতিবাচক পার্থক্য চোখে পড়বে, বিশেষ করে লাগেজ ডেলিভারির ক্ষেত্রে।
এদিকে শুধু বিমানবন্দর সেবায় সীমাবদ্ধ নয় সরকারের ভাবনা। প্রতিমন্ত্রী জানান, পর্যটন খাতকে ঘিরেও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নত বিমানবন্দর সেবা পর্যটন শিল্পের জন্য অপরিহার্য—এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই সচিব ও অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক করে সংস্কার কার্যক্রমের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই অবস্থান বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যাত্রীদের প্রত্যাশা এখন একটাই—এই প্রতিশ্রুতিগুলো যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় প্রতিফলিত হয়। যদি পরিকল্পনাগুলো ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমার পথ সত্যিই খুলতে পারে।



