
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার পথে এগোচ্ছে। দেশটির কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) সম্প্রতি যে নতুন প্রস্তাব ফেডারেল রেজিস্টারে দাখিল করেছে, তাতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে—আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে অনেক ভ্রমণকারীকে তাদের গত পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম জমা দিতে হতে পারে। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ আরও জটিল এবং কাগজপত্র-নির্ভর হয়ে উঠবে বলে মনে করছে পর্যটন খাত।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভিসা মওকুফ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হওয়া ৪২ টি দেশের নাগরিকই এই নতুন যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়বে। যেসব দেশের পর্যটকরা ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য আমেরিকায় যেতে পারেন—যেমন ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া—তাঁদের ক্ষেত্রেই এই বাড়তি তথ্য সংগ্রহ প্রাথমিকভাবে প্রযোজ্য হবে। এখন পর্যন্ত যেটি ছিল একটি তুলনামূলক সহজ ও দ্রুত প্রক্রিয়া, সেটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমান ব্যবস্থায় ভিসা মওকুফকারী দেশের নাগরিকদের ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন (ESTA)–এ নিবন্ধন করে একটি ফর্ম পূরণ করতে হয়, যেখানে মৌলিক পরিচিতি, যোগাযোগের ঠিকানা এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে ৪০ ডলার ফি প্রদান করলেই দুই বছরের জন্য অনুমোদন পাওয়া যায়। কিন্তু সিবিপি যে নতুন প্রস্তাব এনেছে, তাতে আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারী নাম, গত দশ বছরের ইমেল ঠিকানা, পরিবার সদস্যদের নাম ও জন্ম-সংক্রান্ত তথ্য, এমনকি ব্যক্তিগত বাসস্থানের পূর্ববর্তী রেকর্ডও জমা দিতে হতে পারে।
অভিবাসন বিষয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর মধ্যে অনেকে এই পরিকল্পনাকে যথেষ্ট বিস্তৃত এবং উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। কারণ ২০১৬ সাল পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য দেওয়া ছিল সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। সেই জায়গা থেকে এখন বাধ্যতামূলক পাঁচ বছরের পূর্ণাঙ্গ সোশ্যাল মিডিয়া ইতিহাস চাওয়া—এটা নিরাপত্তা নীতির একটা বড় পরিবর্তন বলেই বিবেচিত হচ্ছে। বেসরকারি অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেন এটিকে মার্কিন নীতির “আরও কঠোর রূপান্তর” বলে অভিহিত করেছে।
এই পরিকল্পনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই কিছু ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণ শুরু করেছে—বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের জন্য H-1B ভিসা, ছাত্র ও গবেষক ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে। আরও আছে সরকারের আলাদা এক পরিকল্পনা, যেখানে অনেক বিদেশি আগতদের জন্য ২৫০ ডলারের একটি নতুন ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি আরোপের চিন্তাভাবনা চলছে। যদিও ভিসা মওকুফ কর্মসূচির ভ্রমণকারীরা এ ফি থেকে অব্যাহতি পাবেন, তবুও পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন সংগঠন ইতোমধ্যে এই অতিরিক্ত ফি বাতিলের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।
সিবিপি বলছে—এই প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত নয়। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তারা জনমত গ্রহণ করবে, এরপর সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী ধাপ কী হবে। তবে পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে ধাপে ধাপে পরিবর্তনগুলো আসবে, এবং এটির বাস্তবায়ন শুরু হলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পূর্বের তুলনায় আরও বেশি যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
মোট কথা, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা নীতি আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে, আর এর প্রভাব পড়বে লাখ লাখ আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর ওপর। এখন সবার চোখ সিবিপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে—এই নীতি কি কার্যকর হবে, নাকি বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়ার মুখে নরম হতে হবে মার্কিন প্রশাসনকে।
সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস



