বাংলাদেশ বিমানে ডাঃ রায়হানের দ্রুত চিকিৎসা সেবা

আজ শুক্রবার ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট মদিনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রৌনা হবার পর বিমান যখন প্রায় পাঁচ হাজার ফিট উচ্চতায় ফ্লাই করছে বিমানটি তখন ঢাকা পৌঁছাতে প্রায় ২.৩০ ঘন্টা বাকি।

হঠাৎ বিমান থেকে ঘোষণা আসে বিমানে কোন ডাক্তার আছে কিনা একজন যাত্রী অজ্ঞান হয়ে গেছেন।এমতাবস্থায় বিমানে হৈচৈ পরে যায়। তখন উমরাহ্‌ কাফেলার একজন বিমান বালাকে বলেন ডাক্তার রায়হান নামে ঘোষণা দিতে।বিমান বালা সেই সময় ডাঃরায়হান বলে বিমানে ঘোষণা দেন।

এমতাবস্থায় সেই বিমানের যাত্রী ডাঃ রায়হান ঘুমাচ্ছিলেন এবং কেউ হঠাৎ করে তাকে ঘুম থেকে ঢেকে তোলেন। ঘুম থেকে উঠেই দৌঁড়ে সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন হইছই অবস্থা, একজন ৭০ উর্ধ্ব বয়সী বৃদ্ধা যাত্রী জ্ঞান হারিয়ে আছেন।পাশে একজন বিমান বালা এবং রোগীর জামাতা দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন পালস্ পাচ্ছে না নিঃশ্বাস নিচ্ছে কিনা বুঝতে পারছে না। কিছু সময় আগে বমি ও করেছিলেন তিনি। এদিকে রোগির শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে।

এদিকে ডাঃ রায়হান আমাদের জানান যখন “আমি দেখলাম রোগির এমন অবস্থা তখন আমি মোবাইলের টর্চ দিয়েই রোগীর চোখের পিউপিল দেখলাম। পিউপিলের রেসপন্স দেখেই আমার মনে আশা জাগলো।চোখের কোনে উনি জোড়ে স্টিমুলেশন দেখায় একটু নড়ে উঠলেন।জিজ্ঞেস করলাম রোগীর কি ডায়াবেটিস ছিলোকিনা তখন উনারা জানালেন ছিল এবং তা উঠানামা করতো সাথে সাথেই কেবিন ক্রুকে আমি বললাম একটি বোতলে অনেক বেশী মাত্রায় চিনে গুলিয়ে রোগীর মুখে দিতে এবং দ্রুত বিমানের ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে আসতে বললাম।ব্লাড প্রেসার চেক করে দেখি ব্লাড প্রেসার অনেক বেশী কম। দ্রুত পালস্ অক্সিমিটার লাগালাম দেখলাম অক্সিজেন স্যাচুরেশন ও পালস্ অনেক কম।দ্রুত বিমানে থাকা ইমার্জেন্সী অক্সিজেন নিয়ে আসতে বললাম এবং উনাকে তা দিলাম।দীর্ঘ সময় ধরে রোগীর পাশে থেকে চেষ্টা চালালাম রোগীকে সুস্থ করে তোলার।আলহামদুলিল্লাহ্ দীর্ঘ সময় পর রোগীর জ্ঞান ফিরলো।পালস্ ও অক্সিজেন স্যাচুরেশন বাড়লো।

বিমান ল্যান্ড করার আগ পর্যন্ত প্রায় ২ঘন্টা রোগীর পাশেই দাঁড়ানো ছিলাম।আলহামদুলিল্লাহ্ রোগীর জ্ঞান ফিরলো রোগীর সাথে কথা বললাম।বাংলাদেশ বিমানের সকল ক্রু এই রোগীকে সেবা দিতে সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বিমান থেকে রোগীকে হুইল চেয়ারে করে নামানো পর্যন্ত উপস্থিত থেকে রোগীর থেকে দোয়া নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হলাম আলহামদুলিল্লাহ্।এটি আমার ডাক্তারী জীবনের এক অন্যরকম নিঃস্বার্থ প্রাপ্তি।”

উল্লেখ্য ডাঃরায়হান ঢাকা মেডিক্যালের একজন স্কিন স্পেশালিষ্ট। এবং উনার এই দ্রুত চিকিৎসা সেবার জন্য একজন অসুস্থ রোগী দ্রুত সুস্থ হতে পেরেছেন। এদিকে বিমানে থাকা ক্রু সহ সকলে উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Read Previous

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন চার ঘণ্টা বন্ধ থাকবে পহেলা বৈশাখে

Read Next

এবার মার্কিন পণ্যে ১২৫ শতাংশ চীনেফ শুল্ক আরোপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular