
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : আর্জেন্টিনা, তার ফুটবল, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে দেশটিতে পা রাখার আগে বুঝতে হবে ভিসা প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ এবং এম্বাসির তথ্য।
আর্জেন্টিনার ভিসা কোথায় করা যায়;
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার কোনো দূতাবাস নেই। তাই বাংলাদেশি পর্যটকদের ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আর্জেন্টিনা এম্বাসির মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে হয়।
Embassy of Argentina, New Delhi, India
- ঠিকানা: C-১৭, Malcha Marg, Chanakyapuri, New Delhi – ১১০০২১
- ইমেইল: consular_eindi@mrecic.gov.ar
- ওয়েবসাইট: www.argentina-embassy.in
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন না করে কুরিয়ার বা ভারত ট্রানজিট ভিসা নিয়ে আবেদন করতে হতে পারে।
ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
বাংলাদেশি পর্যটকদের আর্জেন্টিনা ভ্রমণের জন্য সাধারণত নিচের কাগজপত্র লাগবে:
১. পাসপোর্ট – ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ, পূর্ববর্তী পাসপোর্ট থাকলে তা।
২. ভিসা ফরম – অনলাইনে পূরণ বা এম্বাসি থেকে সংগ্রহ।
৩. ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি – সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, ৩.৫ x ৪.৫ সেমি।
৪. কভার লেটার – ভ্রমণের কারণ ও পরিকল্পনা সংক্ষেপে।
৫. ব্যাংক স্টেটমেন্ট (ছয় মাস) – ন্যূনতম ব্যালান্স প্রায় সাত–আট লাখ টাকা সমমূল্য।
৬. ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট – অফিসিয়াল ব্যাংক লেটারহেডে।
৭. ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (দুই–তিন বছর) – যদি না থাকে, কারণ উল্লেখ করুন।
৮. হোটেল বুকিং ও রিটার্ন এয়ার টিকিট রিজার্ভেশন।
৯. ভ্রমণ বিমা – অন্তত ত্রিশ হাজার ইউরো কভারেজ।
১০. কর্মসংস্থান প্রমাণপত্র / NOC – চাকরি বা ব্যবসার প্রমাণ।
১১. জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম সনদ।
১২. পূর্ববর্তী ভিসার তথ্য – ইউএসএ, শেঙ্গেন, কানাডা ভিসা থাকলে সুবিধা হয়।
ভিসা ফি ও অন্যান্য খরচ
| খরচের ধরন | আনুমানিক পরিমাণ |
|---|---|
| ভিসা ফি | প্রায় আশি–একশ ডলার (৮০–১০০ USD) |
| সার্ভিস/এজেন্সি চার্জ | প্রায় ত্রিশ–পঞ্চাশ ডলার (৩০–৫০ USD) |
| কুরিয়ার খরচ | প্রায় বিশ–ত্রিশ ডলার (২০–৩০ USD) |
ফি নন-রিফান্ডেবল। ফি ব্যাংক ড্রাফট বা এম্বাসির নির্দেশিত পদ্ধতিতে জমা দিতে হবে।
প্রসেসিং সময়
- সাধারণত পনেরো–ত্রিশ কার্যদিবস
- ভিসার চাপ বেশি থাকলে পঁইত্রিশ–পঁইতাল্লিশ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে
ভিসা আবেদন ধাপ
১. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন।
২. ইমেইলে এম্বাসিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
৩. সাক্ষাৎকারের তারিখ নিশ্চিত করুন।
৪. ভিসা ফি জমা দিন ও ডকুমেন্ট জমা করুন।
৫. ইন্টারভিউ সম্পন্ন করুন (সরাসরি বা ভার্চুয়ালি)।
৬. ভিসা অনুমোদন ইমেইলে পান।
৭. পাসপোর্ট কুরিয়ারে বা নিজে সংগ্রহ করুন।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- সব ডকুমেন্ট ইংরেজিতে অনুবাদ ও নোটারি করা ভালো।
- ব্যাংক ব্যালান্স যথেষ্ট এবং পরিষ্কার প্রমাণ রাখুন।
- ফুটবল, স্টেডিয়াম বা স্থানীয় আকর্ষণের উল্লেখ করলে ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ে।
এই নিউজটি পড়লে বাংলাদেশি পর্যটকরা আর্জেন্টিনা ভিসা প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস, খরচ এবং এম্বাসি সংক্রান্ত সব তথ্য এক জায়গায় সহজভাবে বুঝতে পারবেন।



