
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডে ভ্রমণের ইচ্ছে থাকলে এখনই প্রস্তুতি নিন, কারণ এই দেশের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করতে হয় এবং বেশ কিছু নতুন নিয়ম কার্যকর রয়েছে। ভ্রমণ ভিসা (Visitor Visa) পেতে হলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নথি প্রস্তুত রাখা, ফি পরিশোধ এবং ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়।
ভিসার ধরন
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য Visitor Visa-ই উপযোগী। এই ভিসায় ঘুরতে যাওয়া, বন্ধু/পরিবারের সঙ্গে দেখা করা বা সর্বোচ্চ ৩ মাসের স্বল্পমেয়াদি কোর্সে অংশ নেওয়া যায়।
ভিসা ফি ও মোট খরচ
| খরচের ধরন | পরিমাণ (বাংলা অঙ্কে) | নোট |
|---|---|---|
| ভিসা আবেদন ফি | প্রায় এনজেডডি ৪৪১ | কোর্স/উদ্দেশ্যভেদে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে |
| IVL (International Visitor Levy) | এনজেডডি ১০০ | বাধ্যতামূলক পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণ ফি |
| মোট আনুমানিক খরচ | এনজেডডি ৫৪১ (প্রায়) | সার্ভিস চার্জ বাদে |
| VAC সার্ভিস চার্জ (VFS Global) | আলাদা ফি | পাসপোর্ট জমার সময় পরিশোধ করতে হয় |
মনে রাখবেন: ফি রিফান্ডযোগ্য নয় এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে অফিসিয়াল সাইটে সর্বশেষ ফি দেখে নিন।
আবেদন করার পদ্ধতি
১. অনলাইনে আবেদন করুন — Immigration New Zealand ওয়েবসাইটে RealMe অ্যাকাউন্ট খুলে ফরম পূরণ করতে হয়।
২. ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন — আন্তর্জাতিক ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে।
৩. পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক জমা দিন — আবেদন সাবমিটের পর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার VFS Global (Visa Application Centre)-এ পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।
৪. ইমেইলে আপডেট পাবেন — ভিসার সিদ্ধান্ত ইমেইলে জানিয়ে দেওয়া হয়, পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে VAC থেকে।
বাংলাদেশে জমা দেওয়ার ঠিকানা
VFS Global — New Zealand Visa Application Centre, ঢাকা
- অবস্থান: বনানী/গুলশান এলাকায় (অফিসিয়াল ঠিকানা VFS ওয়েবসাইটে উল্লেখিত)
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া কোনো সেবা দেওয়া হয় না — আগে থেকেই স্লট বুক করতে হবে।
যে নথিগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে
| প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট | অবস্থা |
|---|---|
| বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ) | বাধ্যতামূলক |
| অনলাইন আবেদন ফরমের কনফার্মেশন | বাধ্যতামূলক |
| পাসপোর্ট সাইজ ছবি (INZ নির্দেশনা অনুযায়ী) | বাধ্যতামূলক |
| ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সর্বশেষ ৩–৬ মাসের) | বাধ্যতামূলক |
| চাকরি/ব্যবসার প্রমাণপত্র | সুপারিশকৃত |
| ভ্রমণ পরিকল্পনা ও টিকিট রিজার্ভেশন | গুরুত্বপূর্ণ |
| হোটেল বুকিং বা অবস্থান নিশ্চিতকরণ | গুরুত্বপূর্ণ |
| পরিবার/দেশে ফেরার নিশ্চয়তা (চাকরি লেটার, সম্পত্তির কাগজ ইত্যাদি) | ভিসা অনুমোদনে সহায়ক |
| মেডিকেল বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স | ৬ মাসের বেশি থাকার পরিকল্পনায় প্রযোজ্য |
ভিসা প্রসেসিং সময়
- ৮০% আবেদন সাধারণত ১৪ দিন (২ সপ্তাহ)-এর মধ্যে সম্পন্ন হয়।
- যদি অতিরিক্ত ডকুমেন্ট বা মেডিকেল চাওয়া হয়, তাহলে সময় বাড়তে পারে।
অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে করণীয়
- সব কাগজ পরিষ্কার স্ক্যান করে আপলোড করুন।
- ব্যাংকে পর্যাপ্ত ব্যালান্স (কমপক্ষে ভ্রমণ খরচের ২–৩ গুণ) রাখুন।
- স্পষ্ট ট্রাভেল প্ল্যান ও রিটার্ন ইচ্ছা ডকুমেন্টে উল্লেখ করুন।
- এজেন্টের ওপর নির্ভর না করে অফিসিয়াল ভিসা ওয়েবসাইটে নিজেই তথ্য যাচাই করুন।
সংক্ষিপ্ত চেকলিস্ট (যাত্রার আগে চেক করার জন্য প্রস্তুত রাখতে পারবেন)
- ✅ অনলাইন আবেদন ✅ ফি পরিশোধ ✅ VFS অ্যাপয়েন্টমেন্ট ✅ ব্যাংক স্টেটমেন্ট
- ✅ পাসপোর্ট + ছবি ✅ ট্রাভেল প্ল্যান ✅ ডকুমেন্ট প্রিন্ট ✅ পাসপোর্ট জমা



