
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কেনিয়া। বন্যপ্রাণী সাফারি, আফ্রিকান সংস্কৃতি ও দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে প্রতিবছর হাজারো ভ্রমণপিপাসু দেশটিতে ভিড় জমান। বাংলাদেশ থেকেও অনেক পর্যটক সেখানে ভ্রমণে যেতে চান। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কীভাবে পাওয়া যাবে কেনিয়ার ভিসা বা এখনকার নিয়মে eTA? চলুন বিষয়টি ধাপে ধাপে জেনে নেই।
ভিসা নয়, এখন eTA
২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কেনিয়া প্রচলিত ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এর পরিবর্তে চালু হয়েছে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (eTA)। অর্থাৎ এখন বাংলাদেশি নাগরিকদের আর দূতাবাসে গিয়ে ভিসার জন্য কাগজপত্র জমা দিতে হয় না। সবকিছুই করতে হবে অনলাইনে।
আবেদন প্রক্রিয়া
১. অনলাইন আবেদন: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট etakenya.go.ke এ গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে।
২. কাগজপত্র:
- কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকা বৈধ পাসপোর্ট
- পাসপোর্টের তথ্য পৃষ্ঠার স্ক্যান কপি
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- রিটার্ন ফ্লাইট টিকিট
- হোটেল বুকিং বা কেনিয়ায় থাকার ঠিকানা
৩. ফি পরিশোধ: আবেদন শেষে অনলাইনে কার্ডের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে হবে।
৪. সময়: সাধারণত ৩ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন অনুমোদিত হয়। অনুমোদন হলে একটি ডিজিটাল অথরাইজেশন ইমেইলে পাঠানো হয়, যা প্রিন্ট করে বা মোবাইলে রেখে ভ্রমণের সময় দেখাতে হবে।
খরচ
- কেনিয়ার eTA ফি নির্ধারিত হয়েছে ৩২.৫০ মার্কিন ডলার।
- এর সঙ্গে সামান্য সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে পারে।
- বাংলাদেশি টাকায় পরিমাণ নির্ভর করবে তখনকার ডলারের বিনিময় হারের ওপর।
এম্বাসি ও যোগাযোগ
বাংলাদেশে কেনিয়ার কোনো স্থায়ী দূতাবাস নেই। তবে এর প্রয়োজনও নেই, কারণ এখন সব আবেদন সম্পন্ন হয় অনলাইনে। প্রয়োজনে যাত্রার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া কন্টাক্ট সাপোর্টে যোগাযোগ করা যাবে।
বিশেষ নির্দেশনা
- ট্রানজিটে বা ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল থেকে ভ্রমণ করলে ইয়েলো ফিভার ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট দেখাতে হতে পারে।
- তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল হলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
- ভ্রমণের সময় প্রিন্ট কপি বা ডিজিটাল অথরাইজেশন অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে কেনিয়া ভ্রমণে আর দূতাবাসে দৌড়ঝাঁপ নেই। অনলাইনে সহজ প্রক্রিয়ায় eTA নিলেই যাত্রা সম্ভব। খরচ তুলনামূলকভাবে কম, সময়ও লাগে মাত্র কয়েক দিন। সব মিলিয়ে আফ্রিকার দারুণ এই দেশটিতে ঘুরে আসা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে।



