
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বড়দিনের উৎসব এবার ঢাকায় ভিন্ন এক বার্তা নিয়ে এসেছে—বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বার্তা। ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি পরে বড়দিন উদযাপন করে সেই বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানায়, হাইকমিশনার সারাহ কুক এবারের বড়দিন উদযাপন করেছেন একেবারে বাংলাদেশি ঢঙে। তার পরনে ছিল টাঙ্গাইল অঞ্চলের হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি—যা সম্প্রতি ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে বাংলাদেশের অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
এই উদ্যোগ শুধু একটি উৎসব উদযাপন নয়, বরং বাংলাদেশের লোকজ শিল্প, বয়ন ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের সম্মান প্রদর্শনের একটি প্রতীকী দৃষ্টান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সাংস্কৃতিক উপস্থাপন বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় সংস্কৃতির গর্ব। সূক্ষ্ম কারুকাজ, প্রাকৃতিক রঙ এবং হাতে বোনা নিখুঁত নকশার জন্য এই শাড়ি দেশ-বিদেশে পরিচিত। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে এই অঞ্চলের প্রতি। অনেক পর্যটক এখন টাঙ্গাইলকে শুধু একটি জেলা নয়, বরং একটি জীবন্ত ঐতিহ্যবাহী পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দেখছেন।
এদিকে বড়দিন উপলক্ষ্যে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, কানাডা, চীন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা দিয়েছে।
পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক মহলের এমন সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নরম কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে। পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার একটি কার্যকর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে যে সম্ভাবনা রয়েছে, সারাহ কুকের এই বড়দিন উদযাপন সেটিকেই নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে। উৎসবের মধ্য দিয়ে একটি দেশের সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো—এটাই যেন এবারের বড়দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।



