বর্ষায় সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে: প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘুরে আসুন নয়নাভিরাম ৫ স্থান

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বর্ষা শুধু বৃষ্টির মৌসুম নয়, এটি প্রকৃতির প্রাণ ফেরার ঋতুও। খরতাপে ক্লান্ত প্রকৃতি ও মনকে সজীব করে তোলে বর্ষার অনাবিল ধারার স্পর্শ। তাই বর্ষা এলেই ঘরে বসে থাকা দায়! এই সময় একটু অবসর পেলেই মন চায় হারিয়ে যেতে প্রকৃতির কাছাকাছি, দূরে কোথাও পাহাড়, নদী কিংবা জলে ঘেরা সবুজ জগতে। বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগে দেশের মধ্যেই রয়েছে অসংখ্য নয়নাভিরাম স্থান। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই ৫টি অসাধারণ গন্তব্য, যেখানে বর্ষা যেন প্রকৃতির সেরা শিল্পকর্ম হয়ে ধরা দেয়।

সাজেক ভ্যালি, রাঙামাটি

‘মেঘের রাজ্য’ খ্যাত সাজেক ভ্যালি বর্ষায় হয়ে ওঠে আরও মোহময়। সবুজ পাহাড়, মেঘের ছোঁয়া আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টির শব্দ মিলেমিশে এখানে তৈরি করে এক রূপকথার আবহ। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ছোট ছোট ঘর, আদিবাসী জীবনধারা আর জানালার পাশে চা হাতে রবীন্দ্রসংগীত—সাজেকে বর্ষার এমন অনুভূতি কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। খাগড়াছড়ি হয়ে সহজেই যাওয়া যায় সাজেক ভ্যালিতে।

বিছনাকান্দি, সিলেট

সিলেটের বিছনাকান্দিতে বর্ষায় প্রকৃতি আঁকে জলরঙের ছবি। পাহাড়ি ঝরনা থেকে আসা স্বচ্ছ জল, মেঘের মিতালি আর রঙিন পাথরের ছোঁয়ায় এখানে দাঁড়ালেই মনে হয়, আপনি কোনো চিত্রকর্মের মধ্যে চলে এসেছেন। বর্ষাকালে এই স্থান হয় প্রাণবন্ত ও দর্শনীয়। সরাসরি সিলেট শহর থেকে সড়কপথে পৌঁছানো যায় অনায়াসে।

পেয়ারার ভাসমান বাজার, পিরোজপুর

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির (নেছারাবাদ) ভাসমান পেয়ারার বাজার বর্ষার সময় হয়ে ওঠে দেশের অন্যতম ব্যতিক্রমী পর্যটন স্থান। খালের ওপর ডিঙিনৌকায় ঘুরে ঘুরে দেখা যায় পেয়ারা তোলা, কেনাবেচা আর জলের ওপর জীবনের ছন্দ। সঙ্গে চায়ের ফ্লাস্ক থাকলে অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে আরও রোমাঞ্চকর। কাছাকাছি ঘোরা যায় ভীমরুলির বিখ্যাত ভাসমান বাজারেও।

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, সিলেট

জলের ওপর ভেসে থাকা সবুজ বন—এটাই রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের বৈশিষ্ট্য। বর্ষাকালে এই বন পুরোপুরি পানিতে ডুবে যায়, তখন নৌকায় ঘুরে ঘুরে দেখা যায় এর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য। পাখির ডাক, জলরাশি আর বনের সবুজে নিজেকে হারিয়ে ফেলাও যেন বর্ষার পূর্ণতা। সিলেট শহর থেকে রাতারগুলে পৌঁছানো যায় সহজেই।

নাফাখুম ঝরনা, বান্দরবান

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য বর্ষাকালে নাফাখুম ঝরনা এক আদর্শ গন্তব্য। বান্দরবানের থানচি হয়ে দীর্ঘ ট্রেকিং আর রিমাক্রি নদী পার হয়ে পৌঁছাতে হয় এই ঝরনায়। বর্ষায় ঝরনার স্রোত বেড়ে যাওয়ায় দৃশ্য হয় উত্তাল ও দুর্দান্ত। তবে ঝুঁকিপূর্ণ পথ বলে গাইড ও সাবধানতা আবশ্যক।

বর্ষা শুধু ভেজা পথ বা ছাতা ধরার সময় নয়, এটি প্রকৃতিকে অনুভব করার উত্তম সময়। তাই এই বর্ষায়, ছুটি পেলেই বেড়িয়ে পড়ুন দেশের অপার সৌন্দর্যে ভরপুর গন্তব্যগুলোতে। প্রকৃতি আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছে নিজের ছায়ায় ভেজার জন্য।

Read Previous

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের পদত্যাগ

Read Next

সুন্দরবনে হরিণ শিকার: ঢাকাগামী বাস থেকে মাংসসহ দুইজন আটক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular