
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৫ পালিত হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। পাহাড়, হ্রদ আর সবুজের সমারোহে ঘেরা এই জেলায় পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরতে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
ম্যারাথন ও র্যালি: তারুণ্যের উচ্ছ্বাস
দিনের শুরুতে রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে শুরু হয় ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে অংশগ্রহণকারীরা শারীরিক সক্ষমতা ও উদ্যমের প্রদর্শনী করেন। এরপর জিমনেশিয়াম এলাকা থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য র্যালি, যেখানে জেলা পরিষদ, প্রশাসন, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। হাতে ব্যানার আর মাথায় পর্যটন দিবসের টুপি—পুরো র্যালিটিই ছিল পর্যটন সচেতনতার এক প্রতীকী প্রদর্শনী।
আলোচনা সভা: সমস্যা ও সম্ভাবনার আলোকপাত
জেলা পরিষদের এনেক্স ভবনে অনুষ্ঠিত হয় মূল আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেব প্রসাদ দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী সেনা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোঃ জুনাইদ উদ্দিন শাহ চৌধুরী, নবাগত কমান্ডার লে. কর্নেল মোঃ একরামুল রাহাত এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার খায়রুল আমিন।
সভায় সাংবাদিক ইয়াছিন রানা সোহেল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যেখানে স্থানীয় পর্যটন বিকাশে গণমাধ্যম ও অংশীজনদের ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। অন্যান্য বক্তারাও রাঙামাটির পর্যটন উন্নয়নে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেন।
সম্মাননা ও পুরস্কার: অনুপ্রেরণার স্বীকৃতি
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্ব ছিল সম্মাননা প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ।
- পর্যটন ব্যক্তিত্ব সম্মাননা: ইয়াছিন রানা সোহেল
- সেরা রিসোর্ট সম্মাননা: রাঙ্গাদ্বীপ
- সেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সম্মাননা: আল আমিন সাজিদ
এছাড়া মাসব্যাপী ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থী এবং ম্যারাথন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
রাঙামাটির সম্ভাবনা
পুরো আয়োজন প্রমাণ করেছে, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিকে পর্যটনের অন্যতম শক্তিশালী গন্তব্যে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রকৃতির বৈচিত্র্য আর পাহাড়ি সংস্কৃতির সমন্বয়ে রাঙামাটি অচিরেই দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন সবাই।



